নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজমুল আলম প্রথমবার তরমুজ চাষ করেছেন। দেড় একর জমিতে তার খরচ হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সব গাছ মারা গেছে। লাভ তো দূরের কথা, ১ টাকাও পুঁজি তুলতে পারেননি তিনি। শুধু নাজমুল আলম নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তরমুজ চাষ করে অনেক চাষিকে লোকসান গুনতে হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের পরও ভাইরাসে আক্রান্ত, ফলন কম, বাজারদর কমে যাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে লোকসানে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে তাদের কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। হিঙ্গুলী, ধুম, ওচমানপুর, ইছাখালী, দুর্গাপুর, মিঠানালা, মঘাদিয়া, মায়ানী, সাহেরখালী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্লোরি জাম্বু, বেঙ্গল কিং, ড্রাগন কিং ও গ্রিন ড্রাগন জাতের তরমুজ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলা থেকে আসা অনেক কৃষক এখানে তরমুজ চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি প্রথমবার স্থানীয় অনেক কৃষকও যুক্ত হয়েছেন।
কাটাছরা ইউনিয়নের চাষি মো. শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার আমিসহ ৫ জন মিলে ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। তারমধ্যে বিক্রি করেছি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা! আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ধার-দেনা করে প্রথমবার তরমুজ চাষ করেছি। গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ফলন খুব কম হয়েছে। এ ছাড়া যা ফলন হয়েছে, বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে। লাভ দূরের কথা, ন্যূনতম পুঁজি তুলতে পারলেও হতো। এত টাকা ধার-দেনা কী করে যে শোধ করবো, বুঝতে পারছি না।’
কৃষকেরা জানান, একেকজন শেয়ারদার ৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। এই অর্থের বড় অংশই ব্যাংক, এনজিও ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করা। কিন্তু তরমুজ গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া, ফলন কম হওয়া, দাম কমে যাওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধিতে ঠিকমতো বাজারজাত করতে না পারার কারণে তারা লোকসান গুনছেন।
ধুম ইউনিয়নের চাষি নাজমুল আলম বলেন, ‘২ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় একর জমিতে তরমুজ চাষ করে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। একটি তরমুজও বিক্রি করতে পারিনি। গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া, বৈরি আবহওয়ার কারণে যেমন দিনের বেলা গরম, রাতে কুয়াশা এসব কারণে ফলন একেবারে হয়নি। অথচ প্রতি বছর এসব জমিতে ফেলন, সরিষা করে ভালো ফলন হতো। আমার মতো অনেক চাষিকে লোকসান গুনতে হয়েছে।’

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট