মোঃ একরামুল হক (চট্টগ্রাম) হাটহাজারী প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে বড় অগ্রগতি এসেছে। উপজেলার ফটিকা মৌজায় অবস্থিত ২০ একর জমি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃগ্রহণ করে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে হাসপাতাল নির্মাণে জমি বরাদ্দের কার্যক্রম আরও এগিয়ে গেল বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমিটি বহু বছর আগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমিটি নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না হওয়ায় জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী জমি পুনঃগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আদেশক্রমে জমিটি পুনঃগ্রহণ করে বি.এস ০১ নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জমি পুনঃগ্রহণসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠায়।
অকৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ১৯৯৫ অনুযায়ী ৫০০ শয্যার হাসপাতালসহ চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি বন্দোবস্তের প্রস্তাব হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
ইউএনও বলেন,
“হাটহাজারীসহ পুরো উত্তর চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে এই ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করছি।”
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর যারা এই বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
জমির বিস্তারিত তথ্য
মৌজা: ফটিকা
জে.এল. নং: ২৪
দাগ নম্বর: ১২৮৯৫ ও ১৮০০১
মোট জমির পরিমাণ: ২০ একর
অবস্থা: খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত (বি.এস ০১)
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জমি খাস খতিয়ানে যুক্ত হওয়ায় এখন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নামে জমি চূড়ান্ত বন্দোবস্ত, প্রকল্প অনুমোদন এবং নকশা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার লাখ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবে।###

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট