ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কর্ণফুলীতে স্ক্র্যাপবোঝাই ট্রাক আটককে কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
কর্ণফুলীতে স্ক্র্যাপবোঝাই ট্রাক আটককে কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: কর্ণফুলীতে স্ক্র্যাপবোঝাই ট্রাক আটককে কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ
ad728
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা :

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় স্ক্র্যাপবোঝাই একটি ট্রাক আটককে কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানি, মারধর এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে, চোরাই মালামালের সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটি আটক করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর তা ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন রাত প্রায় ১১টার দিকে সৈন্যারটেক এলাকার গ্রেস ইয়ার্ড থেকে চট্টগ্রাম মেট্রো-ট ১১-৭৭৪১ নম্বরের একটি স্ক্র্যাপবোঝাই ট্রাক আটক করেন কর্ণফুলী থানার এসআই মিজানুর রহমান। ট্রাকচালক মোহাম্মদ বাদশার দাবি, ট্রাক আটকের পর তাকে আসামি হিসেবে হ্যান্ডকাফ পরানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে গ্রেস ইয়ার্ডের দারোয়ান মো. মুন্সি, হেলপার মোহাম্মদ সবুজ এবং অপর চালক মো. আজাদ উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।

চালকের অভিযোগ, পরবর্তীতে তার ভিডিও ধারণ করে বক্তব্য নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে রাত প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গেছে, ট্রাকটিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ এবং ব্যবসায়ী মো. রফিকের স্ক্র্যাপ মালামাল ছিল। মালামালগুলো কর্ণফুলীর একটি ডক থেকে মইজ্জারটেক এলাকার ইউনুস মার্কেটে নেওয়ার কথা থাকলেও আনলোডের সুযোগ না থাকায় সাময়িকভাবে গ্রেস ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরদিন ফাঁড়িতে মালামালের বৈধতা যাচাইয়ের নামে মূল কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসায়ী মো. রফিক দাবি করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের পরও নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, ২২ জুন রাত প্রায় ৮টার দিকে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে সাগরিকা এলাকার ডকে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির সাধারণ ডায়েরি (জিডি), ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মিজানুর রহমান বলেন, চোরাই স্ক্র্যাপ মালামালের সংবাদের ভিত্তিতে গাড়িটি আটক করা হয়েছিল। পরদিন সকালেই মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখালে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, গাড়িটি আটক ছিল। পরবর্তীতে বৈধ কাগজপত্র যাচাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট