ফটিকছড়ি সংবাদদাতা:
কিছুদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলেও সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আটক করা যাচ্ছিল না। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পরিবহন বা কর্তনের কাজে ব্যবহৃত কোনো সরঞ্জাম পাওয়া না গেলেও পরিদর্শনে স্পষ্টভাবে বোঝা যেত যে, অল্প সময় আগেই সেখানে অবৈধ কার্যক্রম চলছিল। এতে সন্দেহ জাগে যে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ভেতর বা আশপাশে কেউ নজরদারি করে অভিযানের আগাম তথ্য অপরাধীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
পরবর্তীতে কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের আশেপাশে কিছু অপরিচিত লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও আরও কিছু ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ১২টার কিছু পরে অভিযানের উদ্দেশ্যে বের হলে তথ্য সরবরাহের সময় মোহাম্মদ দিদারুল আলম (৩০) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম।
আটক দিদারুল আলম জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি নিয়মিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ওপর নজরদারি করতেন এবং অভিযানের আগাম তথ্য মাটি কর্তনকারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রতিরাতে ৫০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পেতেন বলেও স্বীকার করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, তার সামনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এবং আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মোহাম্মদ দিদারুল আলমকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট