ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মেয়রের কেন এত দরদ,চসিকের ৫০ কোটির প্রকৌশলী দম্পতিকে বাঁচাতে ৫০ লাখের গোপন খেলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 26, 2026 ইং
তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মেয়রের কেন এত দরদ,চসিকের ৫০ কোটির প্রকৌশলী দম্পতিকে বাঁচাতে ৫০ লাখের গোপন খেলা ছবির ক্যাপশন: তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মেয়রের কেন এত দরদ? চসিকের ৫০ কোটির প্রকৌশলী দম্পতিকে বাঁচাতে ৫০ লাখের গোপন খেলা
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

যেখানে ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ঝুলছে, সেখানে সেই অভিযুক্ত প্রকৌশলী দম্পতিকে স্বপদে বহাল রাখতে খোদ মেয়রের এত তোড়জোড় কেন? বদলি ঠেকাতে নেপথ্যে কি ৫০ লাখ টাকার লেনদেন, নাকি আরও গভীর কোনো আঁতাত?

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগকে অন্ধকারে রেখে ১৭ কোটি টাকার রোড রোলার কেনার যে অভিযোগ তুলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী, তদন্ত রিপোর্টে তা মিথ্যে ও বানোয়াট প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু চসিকের ভেতরের থলের বিড়াল কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়।

​তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী এবং তার স্ত্রী নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা—চসিকের এই প্রভাবশালী প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে এখন ঘুরছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ! অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম থেকে বোয়ালখালী হয়ে অস্ট্রেলিয়া—নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে তাদের রূপকথার সাম্রাজ্য। আর এই গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

অবাক করার বিষয় হলো, একদিকে মন্ত্রণালয়ের তদন্তের খড়্গ, অন্যদিকে ঠিক এই সময়েই চটজলদি উচ্চশিক্ষার বাহানা দিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর তোড়জোড়! প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের মুখোমুখি না হয়ে কেন এই দেশ ছাড়ার তাড়াহুড়ো?

​পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে শাহীন-উল ইসলামকে ময়মনসিংহ এবং ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে বদলি করে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং প্রভাব খাটানো বন্ধ করতে এটিই স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

কিন্তু গোল বাঁধলো অন্য জায়গায়! নগরবাসী যখন আশা করেছিলেন চসিক কর্তৃপক্ষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে, ঠিক তখনই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বদলির আদেশ বাতিল করে এই বিতর্কিত দম্পতিকে চট্টগ্রামেই বহাল রাখতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে আপ্রাণ সুপারিশ ও চিঠি পাঠিয়েছেন খোদ মেয়র!

​মেয়র সাহেব তাঁর চিঠিতে যুক্তি দেখিয়েছেন—জনবল সংকট, উন্নয়ন কাজ থমকে যাওয়া এবং পারিবারিক মানবিক কারণ!

কিন্তু সচেতন নগরবাসীর প্রশ্ন  লাখ লাখ চট্টগ্রামবাসীর নগরসেবা কি তবে মাত্র দুজন বিতর্কিত কর্মকর্তার ওপরই জিম্মি? চসিকে কি আর কোনো দক্ষ ও সৎ প্রকৌশলী নেই?

দ্বিতীয়ত, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের স্বপদে রেখে দিলে কি তদন্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ থাকবে, নাকি প্রমাণ লোপাটের সুযোগ তৈরি হবে?

এবং তৃতীয়ত, যেসব মানবিক কারণের কথা বলা হচ্ছে, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের সামনে সেই 'মানবিকতা' কি চসিকের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না?

​গুনঞ্জন উঠেছে, এই বদলি ঠেকাতে এবং অভিযুক্তদের ছাতা হয়ে দাঁড়াতে নেপথ্যে একটি প্রভাবশালী চক্র মেয়রের এই অবস্থানকে ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকার বিশাল এক দরকষাকষিতে নেমেছে। যদিও সরকারি নথিতে মেয়রের দেওয়া যুক্তিগুলো খুব 'সহানুভূতিশীল' মনে হতে পারে, কিন্তু সাধারণ নগরবাসীর চোখে এটি অপরাধীদের সুরক্ষার এক ঢাল ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।

একজন মাস্টাররোল কর্মচারী থেকে কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া যায়—সেই প্রশ্নের উত্তর যেখানে নগরবাসী খুঁজছে, সেখানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়রের এমন পক্ষপাতমূলক সুপারিশ কার স্বার্থে? অসাধু চক্রকে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, নাকি নিজেদের অবস্থান ঢাকাই কি এই চিঠির আসল উদ্দেশ্য?



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার