ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরও বহাল সিডিএ গার্লস স্কুলের সেই শিক্ষিকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 15, 2026 ইং
তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরও বহাল সিডিএ গার্লস স্কুলের সেই শিক্ষিকা ছবির ক্যাপশন: তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরও বহাল সিডিএ গার্লস স্কুলের সেই শিক্ষিকা
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম 

​নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নিয়োগ লাভ, প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপিং, প্রশ্নপত্রে ভুল এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার একাধিক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে চান্দগাঁওয়ের সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের আইসিটি শিক্ষিকা শাহীন সুলতানার বিরুদ্ধে। স্বজনপ্রীতি ও এসব প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এলাকা জুড়ে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​নথিপত্র অনুযায়ী, আইসিটি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগকালীন সময়ে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি এবং NTRCA নিবন্ধনধারী একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তাঁদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উল্টো সকল নিয়ম তোয়াক্কা না করে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে B.Pharm ও M.Pharm ডিগ্রিধারী শাহীন সুলতানাকে, যাঁকে সরাসরি দশম গ্রেডে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রিধারী ও নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মাত্র ৬ মাসের কম্পিউটার কোর্স থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এ পদে আসীন করার নেপথ্যে একটাই স্বজনপ্রীতি কাজ করেছে—তিনি ছিলেন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিবের আপন ভাগিনী।

​প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় নানা প্রশাসনিক অসংগতি। নিজ বিষয় বাদ দিয়ে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাব খাটিয়ে রুটিনে ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে মূল আইসিটি বিষয়টিতে শিক্ষকতা করতেন অন্য বিষয়ের অনভিজ্ঞ শিক্ষকরা, আর শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হতো নিয়মিত ল্যাব প্র্যাকটিস থেকে। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসন যোগ্যতা অনুযায়ী রুটিন বণ্টন করলে শিক্ষক মিলনায়তনে শুরু হয় হট্টগোল।

​প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুধু সহকর্মীদের সাথে অসদাচরণ ও শিক্ষকদের নিয়ে গ্রুপিং সৃষ্টিই নয়; পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল, রুটিন পরিবর্তন, ক্লাস পার্টির নাস্তার কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব অবহেলার মতো একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।

​এসব ধারাবাহিক অব্যবস্থার রেশ ধরে ২০১৯ সালের ৭ই মার্চ শিক্ষক মিলনায়তনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রতিষ্ঠানের ৩৪ জন শিক্ষক যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

​তদন্ত কমিটিতে (তদন্তকালীন পদবি) ছিলেন:

আহ্বায়ক: জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শাহ্ (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড)

সদস্য: জনাব কে. বি. এম শাহজাহান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড)

সদস্য: জনাব ভূপতি ভূষণ ইমরান (তৎকালীন সদস্য, সিডিএ বোর্ড)

সদস্য: জনাবা তাহেরা ফেরদৌস বেগম (তৎকালীন সচিব, সিডিএ)

সদস্য: এস. এম. এরশাদ হোসেন (সিনিয়র শিক্ষক-গণিত, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ)

সদস্য সচিব: জনাব এ. এস. এম হাবিবুর রহমান (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২, সিডিএ)

​অডিও রেকর্ড, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রবিধান ভঙ্গের দায়ে সিডিএ ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে চূড়ান্ত বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু রহস্যজনক ও প্রশাসনিক  সহ নানা অজুহাতে সেই বরখাস্তের আদেশ আজও কার্যকর হয়নি; অভিযুক্ত এই শিক্ষিকা এখনো পদে বহাল রয়েছেন।

​তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং এসব বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শাহীন সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, "নিয়োগের সময় আমার কাছে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, আমি সবই জমা দিয়েছি। শিক্ষকদের অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার কথা আমার মনে নেই, আমি সবকিছু ভুলে গেছি।"


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট