আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীর চান্দগাঁও -পাঁচলাইশের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ২৮৫ নং চট্টগ্রাম-৮ আসন। এ আসনটিতে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে ১১ দলীয় জোটভুক্ত শরীক দল জামায়াত ও এনসিপি মুখোমুখি হলেও ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি মনোনীত আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহকে নিয়ে একদম স্বস্তিতে রয়েছেন এ ঘরনার লোকজন।
জানা যায় -৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দলীয় কর্মি সমর্থকদের নিয়ে এ আসনে মাঠে্ -ময়দান বিচরণ করে আসছেন বোয়ালখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডাঃ আবু নাছের। তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সমর্থন নিয়ে যথারীতি মনোনয়ন দাখিল করে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও পান তিনি। কিন্তু বিপত্তি লাগে যখন গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের কয়েক ঘন্টা পর এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে তাদের দলীয় প্রার্থীকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তখন। এরপর ও ক্ষান্ত হননি ডাঃ আবু নাছেরের কর্মি সমর্থকরা। সমান তালে প্রচার- প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এমনকি এসব প্রচার-প্রচারণায় চোখে পড়ছে একাধিক নারী সমর্থকদেরও । এ নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে গত ২৬ জানুয়ারি বোয়ালখালীতে আসেন এনসিপির মুখপাত্র সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে শাপলা কলিতে ভোট চান, এনসিপি প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে জোটগতভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২ জানুয়ারী চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় ১১ দলীর জোটের প্রার্থী হিসেবে আমার হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। সুতরাং জোটের বাকি দলগুলোর উচিত এখানে আমাকে সহযোগিতা করা। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর অব্যহত প্রচারণা ভালো কিছু বয়ে আনছে না। এদিকে, দিন যতই যাচ্ছে এ আসনকে ঘিরে জামায়াত জোটের উভয় প্রার্থীর মধ্যে টানাপোড়ন বেড়েই চলেছে। জামায়াত জোটের দুই প্রার্থীর টানাপোড়েনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর অবস্থান সুবিধাজনক মনে হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নে কোন প্রার্থী্কে এত দুর্বল ভাবছেন না তিনি। তাইতো দলীয় কর্মি-সমর্থকদের সাথে নিয়ে সমান তালে নির্বাচনী মাঠ ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। এতে সুখবরের পাশাপাশি অনেক গুজ্ঝন ও বাজছে কানে। বলা হচ্ছে জুলাই বিপ্লবের ৫ আগস্টের পর ৩/৪ ভাগে বিভক্ত এখানকার বিএনপির কয়েকজন নেতাকে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছুটা এক করতে পারলেও তৃণমূলে জ্বলছে এখনো তুসের আগুন। পক্ষটির দাবী আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে উপরে-উপরে সব পক্ষ আপাতত এক মনে হলেও বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। ৫ আগস্টের পর দলে যাদের পুনর্বাসন হয়েছে তাদের দাফটে এখনো দূরে-দূরে হাটছে ত্যাগীদের অনেকেই। বাকী সময়টুকুতে তাদের কাছে টানতে ব্যর্থ হলে হয়ত এর খেসারত দিতে হবে বিএনপির প্রার্থীকে।
জানা গেছে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। মহাজোট প্রার্থী জাসদের মাঈনুদ্দীন খান বাদলের কাছে ১৭১৮২ ভোটে হেরে যান তিনি। এ নির্বাচনে মাঈনুদ্দীন খান বাদল পান-১ লাখ ৫০ হাজার ৬৪৮ ভোট আর এরশাদউল্লাহ পান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬৬ ভোট। এ আসনে বাকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল আলম ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়্যদ মুহাম্মদ হাসান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ সহ মোট ৭ জন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে এ আসনে মোট ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৬ টি ভোটার আছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩২ জন, মহিলা ভোটার আছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩০৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছে একজন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৭৯ টি।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট