নিউজ ডেস্ক | চট্টগ্রাম
পুঁজিবাজারে পণ্যের লেনদেন ও ব্যবসার পরিধি বাড়াতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (সিএসই) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সচেতনতা ও জ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা জানান।
সহজ কথায় কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কী?
সাধারণ শেয়ারবাজারে যেমন বিভিন্ন কোম্পানির ‘শেয়ার’ কেনাবেচা হয়, কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ঠিক তেমনি বিভিন্ন ‘পণ্য’ (যেমন: সোনা, রুপা, তুলা বা পাম অয়েল) কেনাবেচা হয়। এর মাধ্যমে পণ্যের সঠিক দাম নির্ধারণ সহজ হয় এবং পণ্যের উৎপাদক ও ক্রেতা—উভয়ই আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পান।
সোনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি জানান, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।
প্রথম ধাপের পণ্য: সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, বিদেশি পরামর্শকদের মাধ্যমে সমীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিকভাবে স্বর্ণ, রুপা এবং ক্রুড পাম অয়েল দিয়ে এই বাজার শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ব্রোকারদের প্রস্তুতি: ব্রোকাররা এরই মধ্যে লাইসেন্স নিচ্ছেন এবং তারা বিদেশে গিয়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিদর্শন করে এসেছেন।
অর্থনীতি ও বাজারে প্রভাব
বিশেষ অতিথি সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, "কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হবে। বিশ্বে শক্তিশালী কমোডিটি মার্কেট থাকলেও বাংলাদেশে এটি প্রথম উদ্যোগ।"
বক্তারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করতে পণ্য ডাইভারসিফিকেশন বা নতুন পণ্যের সংযোগ অতি জরুরি। কমোডিটি মার্কেট চালু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি পণ্য উৎপাদনকারী ও ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
সার্বিক প্রস্তুতি
সিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কেট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি, প্রযুক্তিগত এবং ইকোসিস্টেমের কাজ শেষ পর্যায়ে। পুরো ট্রেডিং সিস্টেমকেও এর উপযোগী করে আপডেট করা হয়েছে।
সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার আরিফ আহমেদ সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট