
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বরকল ছালামতিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুল আলম (রহ.)-এর স্মরণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ১৩ আগস্ট'২৬ বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়।
বরকল ছালামতিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মরহুমের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করা হয়। পরে মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুল আলম (রহ.)-এর কর্মময় জীবন, শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁর আদর্শ ও স্মৃতিচারণ করে আলোচনা করেন অতিথিবৃন্দ। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেট জিএম শাহাদত হোসাইন মানিকের পরিচালনায় অতিথি- বক্তব্য রাখেন- অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল খালেক শওকী,অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহিউদ্দীন হাশেমী,বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান,বিপীন চন্দ্র রায়,মুহাম্মদ মুজিবুদ্দৌলা,মুহাম্মদ শওকত হোসেন ফিরোজ,মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী,মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ ফেরদৌসুল আলম খান আলকাদেরী, মাওলানা মোখতার আহমদ ইসলামাবাদী, হাজী মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম,শামিম আরা চৌধুরী লিলি,সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল্লাহ,সুপার মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল হক,মাস্টার মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন,মাওলানা মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন,মুহাম্মদ মনিরুল হাসান,প্রভাষক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসাইন,মাওলানা মুহাম্মদ মফিজুল্লাহ,
মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ শফিউল করিম খান।
স্মরণ সভায় বক্তরা বলেন, মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুল আলম (রহ.) ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেম ও আদর্শ শিক্ষক। তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ইন্তেকালে একজন অভিভাবক, শিক্ষক ও আলোকিত মানুষকে সমাজ হারিয়েছে। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
বক্তারা আরো বলেন মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুল আলম (রহ.) দীর্ঘদিন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দ্বীনি শিক্ষা ও মানবকল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁর মতো একজন গুণী মানুষের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শে। মাওলানা মনছুরুল আলম (রহ.) তাঁর কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা। সভায় উপস্থিত ছিলেন,সৈয়দ শিবলি সাদিক কফিল, আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু তাহের, মুহাম্মদ সোলাইমান শিকদার,মুহাম্মদ আবুল কালাম সওদাগর,প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন চৌধুরী,প্রভাষক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন,
প্রভাষক মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ ছিবগতুল্লাহ চৌধুরী,মাওলানা মুহাম্মদ শফিকুল্লাহ হালেমী,কাজী মুহাম্মদ আজিজুল হক,মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক,মুহাম্মদ আরকান, সুপার মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ,সহ-সুপার মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন ফরহাদ,মীর কাশেম,মাওলানা মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন,মাস্টার মুহাম্মদ এনামুল হক,রোখসানা আকতার,মুহাম্মদ আমির খসরু,মুহাম্মদ আমিনুর ইসলাম,মুহাম্মদ রিদোয়ান,মুহাম্মদ মিজানুর রহমান,অশোক কুমার সুশীল, মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম,মাওলানা মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন,রাবেয়া আকতার,মুহাম্মদ আবদুল জব্বার,মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম,মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী,মাস্টার মুহাম্মদ মামুন মিয়া,আমেনা খাতুন,মুহাম্মদ এমরান হোসেন,মাস্টার মুহাম্মদ আমির হোসেন,মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান,মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম আরিফ,হোসনান মুহাম্মদ তানবির,মুহাম্মদ আরাফাত,মুহাম্মদ রাসেল উদ্দীন চৌধুরী,শাহেদা বেগম,জোসনা আকতার,হাফেজ মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন,এম.এ ছবুর,মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন রনি,মুহাম্মদ হোসেন,মুন্নি আকতার,আরমান হোসেন প্রমুখ। সভায় বক্তারা, মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুল আলম (রহ.) ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক আদর্শ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলেছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” স্মরণসভা শেষে মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুল আলম (রহ.)-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে তাঁর কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করা, জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম নসিব করা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবর করার তাওফিক দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই মরহুমের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া দ্বীনি ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।