প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 20, 2026 ইং
বোয়ালখালীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনপদের নাম ননাইয়ারমার ঘাট

এম মনির চৌধুরী রানা
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনপদের নাম ননাইয়ারমার ঘাট। এখানে ১৩৫টি পরিবারের মানুষের বসবাস। যারা পশ্চিম গোমদন্ডী (প্রস্তাবিত চরখিজিরপুর ইউনিয়ন) ইউনিয়নের বাসিন্দা। তবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগের মতো মৌলিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার বাসিন্দারা। যাদের যোগাযোগের এক মাত্র ভরসা নৌকা।
পটিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী হাবিলাসদ্বীপ ও কোলাগাঁও ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত ননাইয়ারমার ঘাট কর্ণফুলীর প্রবাহমান বোয়ালখালী খালের তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা সবুজ-শ্যামল জনবসতি। চলাফেরা, বাজার-সওদা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখানকার মানুষজন পটিয়ার ওপর নির্ভরশীল। অথচ প্রশাসনিকভাবে তারা বোয়ালখালীর বাসিন্দা।
এ জনপদে ১৩৫টি পরিবারের বসবাস। ভোটার সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। ভোট দেন বোয়ালখালীতে, প্রশাসনিক সেবাও নিতে হয় বোয়ালখালী থেকেই। তবে এপার-ওপার যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। কর্ণফুলী নদী, বোয়ালখালী খাল, দু’মুখো খাল ও পটিয়ার গরুলুটা খালবেষ্টিত এ জনপদটি পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত। ব্রিটিশ আমল থেকেই ননাইয়ারমার ঘাটের নৌকাই এখানকার মানুষের প্রধান পারাপারের মাধ্যম।
বোয়ালখালী উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র জানা গেছে, তৎকালীন এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমদ থাকা কালীন শাকপুরা ইউনিয়নের লালার হাট এলাকার সারাং বাড়ি দিয়ে পটিয়া সংযোগ, শাকপুরা মিলিটারী পুল এলাকার পুরাতন থানা দিয়ে পটিয়া সংযোগ ও ননায়মার ঘাটে সংযোগ সেতু নির্মানের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। পরিদর্শন টিম যাচাই-বাছাই করে ননায়মার ঘাট সেতু রেখে অন্য ২টি সেতুর প্রস্তাবনা বাতিল করা হয়। পরিদর্শনকালে জানানো হয় ব্রীজ নির্মাণের নিয়ম হচ্ছে ১কি: মি: উজান-ভাটাতে কোন ব্রীজ থাকা যাবে না। মিলিটারী পুল ও বেঙ্গুরা পটিয়া সংযোগ সেতুর দুরত্বের কারনে সেতু ২টি বাতিল হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাছের উদ্দিন বলেন,প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিতে হয় এখানকার ছেলে-মেয়েরা। কাঁচা ও ভাঙাচোরা সড়ক মাড়িয়ে পটিয়ায় যেতে হয় পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য। এতে শিশু, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরুরি সেবা নেওয়ার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
এলাকাবাসি মো: ইসমাইল বলেন, এ এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেন পাঁচুরিয়া থেকে আর চাকরিজীবীরা কোলাগাঁওয়ের কালারপুল হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাতায়াত করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করেন সফর আলী মুন্সিরহাট থেকে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবী। কেউ কেউ খাল-নদীতে মাছ ধরে, নৌকা ও সাম্পান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে আবার প্রবাসে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের আগে ভাঙনরোধ ও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও ভোট শেষ হলে সব ভুলে যান জনপ্রতিনিধিরা। খালের ভাঙনে ইতিমধ্যে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। পুকুরপাড় ও জমির আইল ধরে চলাচল করতে হয় মানুষকে।
চরখিজিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন,যুগ যুগ ধরে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনে আসা এই এলাকার মানুষগুলো এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না, তারা এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সেতুর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চান।
বোয়ালখালী এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: ফারুক হোসেন বলেন, উপজেলা থেকে বিছিন্ন জনপথ ননায়মার ঘাট এলাকায় একশত বিশ মিটার সেতু নির্মাণ,ওপারের ১ কি: মিটারের সড়ক নির্মাণের জন্য মৌজা মেপসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত প্রস্তাবনাটি পাশ হলে সেতুর কাজ শুরু হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট