
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি আ.ন.ম শামসুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ আবু তাহের রাহি হাত ধরে আমাদের ইসলামী আন্দোলন আসার সুযোগ হয়েছে। ওনি এমন একজন ইসলামী আন্দোলনের পন্ডিত ছিলেন। ওনার আলোচনা শুনে মানুষ ইসলামি আন্দোলনে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসতেন। আজকে যারা বড় বড় ইসলামী আন্দোলনের নেতা তারা সবাই মাওলানা আবু তাহেরের হাতে গড়া জনশক্তি। ওনি খুবই সরল জীবনযাপন করতেন। এত বড় একজন নেতার এভাবে জীবনযাপন সত্যিই বিরল। তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার নেতৃত্ব শুধু রাজনীতিতে নয় শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব পড়েছে।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রাটারি জেনারেল ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন অধ্যক্ষ আবু তাহের জ্ঞানের সাগর ছিলেন। ওনি একাধিক ভাষার অধিকারী ছিলেন।তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামি আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। ওনি ছাত্রজীবন থেকে সৃজনশীল নেতা ছিলেন। ওনি এতো গুনী একজন মানুষ ছিলেন তবে দুঃখজনকভাবে আমরা সেদিন স্বাধীনভাবে জানাজা পড়ার অধিকার পাইনি। তিনি বহু গুনের অধিকারী ছিলেন। যারা ওনার সংস্পর্শ পেয়েছেন তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। ওনি এমন নেতা ছিলেন তৎকালীন আমাদের শীর্ষ নেতারা ওনাকে নিয়ে গর্ব করতেন। আজকে আলোচনা সভা প্রমান করেছে ওনি দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মানের জায়গায় অবস্থান করছেন।
শনিবার (৩০ মে) দি কিং আনোয়ারা করভেনশন হলে আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতের আমীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গনির সভাপতিত্বে অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ "স্মৃতিতে অম্লান "প্রকাশনা পরিষদের সদস্য সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম,সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা ও সদস্য মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, এমন জমানায় ছিলাম বরণ্য এই রাজনীবিদের জানাজা আমরা ভালো করে আদায় করতে পারি নাই। ওনি এই অঞ্চলে ইসলামি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় করে নাই। ওনি শুধু আনোয়ারার কৃর্তি সন্তান নয় ওনি পুরো বাংলাদেশের কৃর্তি সন্তান। এই দেশের ছাত্রদের আলোর মশাল ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ওনার পিতাও একজন গর্বিত আলেম ছিলেন। কওমী ও আলিয়া আলেমদের সমন্বয় করার জন্য তাফসির মাহফিল আয়োজন করেন। অধ্যক্ষ আবু তাহের ধর্মীয় রাজনীতির সব বিভেদ দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাফসীর মাহফিলেরর মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অদ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, জনগনের দায়িত্ব কি জিনিস মাওলানা আবু তাহের ভাই থেকে শেখার প্রয়োজন রয়েছে। অনেক বড় দায়িত্ব পালন করার পর রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার থাকার পর ওনি ছিলেন নির্লোভ। যা রাজনৈতিক নেতাদের ক্যারিয়ারে দুর্লভ।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবু তাহের জ্ঞান আহরনের এক অনন্য মানুষ ছিলেন। ওনি আরবিসহ বিভিন্ন জ্ঞান চর্চা করতেন। ওনি জ্ঞানী লোকদের খুব কদর করতেন। দলমত নির্বিশেষে জ্ঞানী ও সম্মানিত লোকদের সম্মান করতেন।
জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, মাওলানা আবু তাহের আদর্শিক দায়িত্বশীলের অনুপম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে তিনি সার্বজনীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমরা যারা আদর্শিক রাজনীতি ও ইসলামি আন্দোলন করি ওনার চরিত্র থেকে বিষয় গুলো শিক্ষা হিসেবে আমাদের জন্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রামের টিম পরিচালক অধ্যাপক জাফর সাদেক, জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক ,জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী,জেলা শিবিরের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন, বিএনপির সাবেক উপজেলা সেক্রেটারী হুমায়ূন কবির আনসার, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জোবাইরুল ইসলাম মানিক, নেজামে ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হাসান জিয়া, চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ মির্জা,চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ,অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানি,ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা,আ,ক,ম ফরিদুল আলম,বাশখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল,বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম,সদরঘট থানা আমীর অধ্যাপক আবদুল গফুর ,পাচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী,অধ্যক্ষ আবদুস সালাম আনোয়ারী,মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, নাছির উদ্দীন শাহ,আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।
সভা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।