প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 2, 2026 ইং
ভুল তথ্য ও ষড়যন্ত্রে থমকে যেতে পারে মশক নিধনের বৈপ্লবিক উদ্যাগ

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম নগরীতে মশক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বমানের জৈবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সফলতার পর দেশে মশার লার্ভা নিধন কেমিক্যাল উৎপাদনের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের কারণে দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে জিকা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে প্রচলিত মশকনাশক ব্যবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। সে সময় মার্কিন প্রতিষ্ঠান Valent BioSciences LLC-এর জৈবিক লার্ভিসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়। পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে থাকে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির জৈবিক লার্ভিসাইড ব্যবহার করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, পানিতে প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এটি মশার লার্ভার ওপর কার্যকর প্রভাব ফেলে এবং পরিবেশ, মানুষ, মাছ কিংবা অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য কোনো ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে না।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দেশে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কেমিক্যাল উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশেই আধুনিক প্রযুক্তির মশক নিয়ন্ত্রণ উপকরণ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে Valent BioSciences বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য চসিক মেয়রের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডায় অবস্থিত তাদের উৎপাদন কারখানা ও গবেষণাগার পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। সফরের পুরো ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেই বহন করার কথা ছিল, ফলে সরকারের কিংবা চসিকের কোনো আর্থিক ব্যয় হওয়ার কথা ছিল না।
কিন্তু সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে এ ধরনের একটি উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইড বাংলাদেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহলের দাবি, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। তারা মনে করেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট