নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশ ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চে অতিথি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভিড়ে প্রধান শিক্ষকের বসার জায়গা না পাওয়ার একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, সংসদ সদস্যসহ অন্য অতিথিরা মঞ্চে অবস্থান করছেন, আর প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দে দাঁড়িয়ে আছেন সংসদ সদস্যের ঠিক পেছনে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অতিথি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিদ্যালয়টির নাম পুরানগড় শাহ সরফুদ্দীন উচ্চবিদ্যালয়। গতকাল দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অভিভাবক সমাবেশ ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দীন আহমেদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দে, পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. নাসির উদ্দিন ও শিক্ষক প্রতিনিধি অপু কুমার বড়ুয়া। এ ছাড়া সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং সাবেক জনপ্রতিনিধিরাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ। তার এক পাশে ইউএনও রাজীব দাশ পুরকায়স্থ এবং অন্য পাশে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলীম রয়েছেন। সংসদ সদস্যের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন চশমা পরা প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দে। মঞ্চে অন্য অতিথি ও রাজনৈতিক নেতাদেরও দেখা যায়।
ছবিতে প্রধান শিক্ষককে বসে থাকতে না দেখা গেলেও তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রধান শিক্ষক নিজেও বলেছেন, অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন কমিটির দায়িত্বে থাকায় তাকে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি অসন্তুষ্ট নন বলেও দাবি করেছেন।
তবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে একজন শিক্ষকের যথাযথ মর্যাদা ও অনুষ্ঠানের আসনবিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
মোহাম্মদ সায়েম নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, একজন প্রধান শিক্ষক শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি নন, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। অথচ একই মঞ্চে মহান নেতাদের জন্য বসার আসন থাকলেও আমার শিক্ষকের জন্য সম্মানজনক আসনটুকুও নেই। এ কেমন নেতৃত্ব, এ কেমন সম্মানবোধ? যে মানুষটি আমাদের মানুষ গড়ার কারিগর, আজ সে মানুষটিরই বসার জায়গা নেই। মানুষের প্রকৃত বড়ত্ব প্রকাশ পায় অন্যকে কতটুকু সম্মান দিতে জানে তার মধ্যে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দে ঢাকা পোস্টকে বলেন, অনুষ্ঠানে আমি আপ্যায়ন কমিটির দায়িত্বে থাকায় আমাকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট নই। এখানে আমার পদাধিকারবলে কোনো মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়নি। সংসদ সদস্য তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অনুষ্ঠানে ওই প্রধান শিক্ষক মূল বক্তা ছিলেন। তিনি বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডায়াসে গিয়েছিলেন। পরে এসে জায়গা পাননি, পেছনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমি স্কুল কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা এত আহামরি বড় ঘটনা নয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দীন আহমেদ মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, মঞ্চে জায়গা পাননি, বিষয়টি সঠিক নয়। প্রধান শিক্ষক তো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে স্কুলের জন্য অনেক দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন। তিনি অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলেই হয়তো একটু মঞ্চের পেছনে দেখা গেছে। এটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট