দীঘীনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :
আগ্রাসনের শিকার নিরীহ শিশুদের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিশু র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিঘীনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের দুয়ার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে অগ্রণী শিশু কিশোর কেন্দ্র (এএসসি/এসিসি) দিঘীনালা শাখা।
র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সুপারিবাগান এলাকা থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বাঘাইছড়ি আনন্দবাজার এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা শিশু ও নারীর নিরাপত্তা, সহিংসতা বন্ধ, সংঘাতমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের অধিকার রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান বহন করেন। এ সময় তারা শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত, সংঘাত বন্ধ এবং শিশুদের প্রতি নীরবতা ভেঙে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
র্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অগ্রণী শিশু কিশোর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উদোলবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্জন চাকমা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এসব অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের রক্ষার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র দেখা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনের শাসন ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বিভিন্ন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অর্জন চাকমা বক্তব্যে আরও অভিযোগ করেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত আগ্রাসনের ফলে পাহাড়ে এবং সমতলে শিশুদের শিক্ষার নামে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সমাবেশ থেকে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সারাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ-হত্যা বন্ধ, আলোচিত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে লেবানন যুদ্ধে সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের স্মরণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৪ জুনকে ‘আগ্রাসনের শিকার নিরীহ শিশুদের আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। দিবসটি বিশ্বব্যাপী শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পালিত হয়ে আসছে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট