ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হলো ৫ আগস্ট পুলিশ লাইনসে হামলার মামলায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 17, 2026 ইং
আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হলো ৫ আগস্ট পুলিশ লাইনসে হামলার মামলায় ছবির ক্যাপশন: আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হলো ৫ আগস্ট পুলিশ লাইনসে হামলার মামলায়
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে তার ভাইয়ের করা মামলায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দায়েরের পর পুলিশের অভিযুক্ত দুই সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠেছে ফৌজদারি মামলার অগ্রগতি নিয়ে।

এছাড়া এ মামলায় সোহেল হোসেন সরকার নামে পুলিশের এক সোর্সকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাকে আটকের পর গ্রেফতার দেখানো হয়েছে দুই বছর আগের ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে করা পৃথক একটি মামলায়।
নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ এনে গত শনিবার তার ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী ও পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে আসামি করা হয়।
সোহেল হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয়ে আদালতের জিআরও শাখা ও হাজতখানার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় করা একটি মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার দেখানো হয় (মামলা নম্বর-৬)। গত শনিবার তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে খুলশী থানা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। পুলিশের করা ওই মামলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওই মামলায় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাঈম হাসানের ভাই মামলার বাদী সাব্বির আলম। তিনি বলেন, মামলায় নাম থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হলে বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে খুলশী প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সিএমপির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রধান ও উপপুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়।
পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
থানায় নেওয়ার পর সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম হাসান। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে ছাড়া পান।
ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে সিএমপি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’