ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইকো রিসোর্টের নামে পাহাড়ে বাড়ছে অপরিকল্পিত স্থাপনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
ইকো রিসোর্টের নামে পাহাড়ে বাড়ছে অপরিকল্পিত স্থাপনা ছবির ক্যাপশন: ইকো রিসোর্টের নামে পাহাড়ে বাড়ছে অপরিকল্পিত স্থাপনা
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
পাহাড়ের একটুকরো জায়গা পেলেই সেখানে গড়ে উঠছে রিসোর্ট, কটেজ কিংবা মাচাংঘর। পাহাড়ের চূড়া, ঢাল, কিনারা কিংবা ন্যাড়া পাহাড়-কোথাও বাদ যাচ্ছে না স্থাপনা নির্মাণ। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব স্থাপনার নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ইকো রিসোর্ট’। কিন্তু পরিবেশবান্ধব পর্যটনের এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক বিস্তর। কোথাও পাহাড়ের গাছপালা কেটে তৈরি করা হচ্ছে স্থাপনার জায়গা, কোথাও ন্যাড়া পাহাড়ের বুকেই নির্মিত হচ্ছে রঙিন কটেজ। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে পুঁজি করে পর্যটন ব্যবসার বিস্তার ঘটলেও সেই সৌন্দর্য রক্ষার উদ্যোগ কতটা কার্যকর, উঠছে সেই প্রশ্ন।

এসব স্থাপনার অনেকগুলোতেই পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঢাল কেটে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা ও সমতল জায়গা। কোথাও নেই পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। এতে একদিকে যেমন পাহাড়ের স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাহীনতায় দূষণের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের আকর্ষণে পর্যটকেরা ছুটে এলেও পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের নামে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের প্রকৃতির জন্য কতটা সহায়ক, আর কতটা ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে-তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এদিকে কারো কাছে রয়েছে জমির বৈধ কাগজপত্র, কারো কাছে তাও নেই। জেলা প্রশাসনের কাছে নামমাত্র আবেদন করেই বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব পর্যটন ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় একের পর এক গড়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ কটেজ ও রিসোর্ট।
এছাড়া পাহাড়ের জমি ব্যবহারের ধরনেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। কোথাও রাবার বাগান বা হর্টিকালচারের নামে লিজ নেওয়া পাহাড়ে গড়ে উঠেছে পর্যটন স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও দখল করা খাস পাহাড়েও তৈরি হয়েছে রিসোর্ট-কটেজ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, বান্দরবানের পর্যটন এলাকাগুলোতে এখন অনেকটা পাহাড়ের চূড়া পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলে সেখানে স্থাপনা। যেখানে পাহাড়, সেখানেই রিসোর্ট প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আর এসব স্থাপনার বড় একটি অংশের বৈধতা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কারও হাতে জেলা প্রশাসনের কাছে করা আবেদনপত্র, কারও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স; কেউ আবার বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করছেন কোনো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই। ফলে কাগজ আছে, আবার কাগজ নেই। এমন এক অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যেই পাহাড়ে বাড়ছে রিসোর্ট ব্যবসা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও মাচাংঘর গড়ে উঠেছে। অথচ জেলা প্রশাসনের হিসাবে অনুমোদিত হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ৭৯টি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩২টির। ফলে বিপুলসংখ্যক স্থাপনার বৈধতা ও অনুমোদন নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা।

সম্প্রতি সময়ে বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভালো ভিউ পয়েন্ট পাওয়া যায়-এমন পাহাড়ের চূড়া বা ঢালই এখন রিসোর্ট ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য। কোথাও পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ মাচাংঘর, কোথাও ইট-কংক্রিট আবার বাঁশ-কাঠ-ছন দিয়ে কটেজ। আবার সামান্য জায়গা পেলেও তৈরি হচ্ছে টং-ঘর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার