ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের ২০ বছরেও চালু হয়নি শহীদনগর ট্রমা সেন্টার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 4, 2026 ইং
উদ্বোধনের ২০ বছরেও চালু হয়নি শহীদনগর ট্রমা সেন্টার ছবির ক্যাপশন: উদ্বোধনের ২০ বছরেও চালু হয়নি শহীদনগর ট্রমা সেন্টার
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)

কথা ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে মৃত্যু হার কমিয়ে আনবে। তবে বাস্তবে ভাগ্যে জোটেনি সেই সেবা। উল্টো আউটডোরে চিকিৎসা পাচ্ছেন পেটব্যাথা, জ্বর, ঠান্ডা-কাশির রোগীরা। ২০ শয্য বিশিষ্ট ট্রমা সেন্টার যে সেবা প্রদানের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল সেটির বিন্দুমাত্র রেষ নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শহীদনগর ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণের পর দুই স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুইবার উদ্বোধন করলেও দীর্ঘ ২০ বছরে পুরোপুরি কার্যক্রম চালু হয়নি।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির শহীদনগরে গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধনের পর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে মাস কয়েক পর সেন্টারটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আ.ন.ম রুহুল হক ২০১০ সালে ঢাকঢোল পিটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রমা সেন্টারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে আউটডোরে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যসেবা চললেও পরিপূর্ণ কার্যক্রম শুরু হয়নি দীর্ঘ ২০ বছরেও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনতলা বিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারটির নিচতলায় জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসক-নার্সদের কক্ষেই চলছে সেবা কার্যক্রম। বাকি পুরো ভবনটিতে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দোতলা এবং তিন তলায় তৎকালীন সময়ের আধুনিক কাঠামোতে কক্ষগুলো নির্মাণ হলেও এখন খসে পড়ছে পলেস্তারা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, আবার কোথাও ধরেছে মরিচা।

এদিকে ২০ শয্যা বিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারটিতে ১৬টি পদে অর্থো-সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্টসহ ২৬ জন স্টাফের পদে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। তার মধ্যে এখানকার অনেকেই অফিস করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুর্ঘটনা কবলিতরা।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ ১৯ বছর আলোর মুখ দেখেনি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেন্টারটি। অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, সিসিইউ, রোগী থাকার সকল ব্যবস্থাসহ তিনতলা ভবন থাকলেও সবই পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। ব্যবহার না থাকায় ট্রমা সেন্টারের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে, মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও আশপাশে উন্নত মানের হাসপাতাল না থাকায় ঢাকা অথবা কুমিল্লায় নিয়ে যেতে হয়।

শহীদনগরের বাসিন্দা জসীম উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ট্রমা সেন্টারটির ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনে আমি উপস্থিত ছিলাম। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। তবে এটি চালু না হওয়ার একটাই কারণ ছিল, এটা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্যার করেছেন। বিএনপি করেছে। প্রতিহিংসার কারণে ২০ বছরেও ট্রমা সেন্টারটি চালু হয়নি।
চাঁদগাও গ্রামের বাসিন্দা তসলিম আহাম্মেদ বলেন, ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধনের পর থেকে আর ভালো করে চালু করা হয়নি। যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল এর কোনো ফলই পায়নি ভুক্তভোগীরা। আমরা দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হোক। এছাড়া এটি একটি পূর্ণাঙ্গা হাসপাতাল করা হোক।
সুন্দলপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আশরাফ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি পরিপূর্ণভাবে চালু করা দরকার।
ট্রমা সেন্টারে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকসানা বানু বলেন, এখানে পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় মহাসড়কে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া যায় না। প্রতিদিন ৬০-৭০ জন সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কর্মরত চিকিৎসক নাজমুল হাসান বলেন, চিকিৎসক হিসেবে আমি একাই দায়িত্ব পালন করছি। ইনডোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র আউটডোরে সেবা চলছে। জনবল ও না থাকায় আউটডোর সেবা বন্ধ রয়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল না থাকায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সরকার পদক্ষেপ নিলে দুর্ঘটনায় আহতরা ঢাকায় না গিয়ে এখানেই উন্নত সেবা পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি