নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের ১১তম দিনে ছুটির দিন শুক্রবারও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রতিবাদী কনসার্ট’।
শুক্রবার (সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদে অধ্যাপক সায়েমকে দ্রুত পুনর্বহালের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, আজ আমাদের আন্দোলনের ১১তম দিন পার হলেও দাবির বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।
মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অরিন্দম দে জানান, দীর্ঘায়িত আন্দোলনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এই অনিশ্চয়তার নিরসন চেয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুতি, আপনি নিজে হস্তক্ষেপ করে দ্রুত একটা সমাধান দিন। আমরা আর রাজপথে থাকতে চাই না, ক্লাসে ফিরতে চাই।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী কনসার্টের আয়োজন করেন। গানের সুর ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা প্রশাসনের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন। কনসার্টে অংশ নিয়ে পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা দত্ত প্রিয়া বলেন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরা হচ্ছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন থামবে না।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ওই দিন থেকেই বিক্ষোভে নামেন চুয়েট পরিবারের সদস্যরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শুরু হয় সর্বাত্মক ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় একাডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে মশালমিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, সাবেক উপাচার্যের মুখাবয়বের মুখোশ পরে মিছিল, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, ‘৫৬ কেন’ ও ‘শ্বেত শাড়ির গণসাক্ষরের মতো ব্যতিক্রমী সব কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট