ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এই দেশে সত্যিই কি এমন কোনো বিচার হবে, যা দেখে পরের অপরাধী ভয় পাবে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 24, 2026 ইং
এই দেশে সত্যিই কি এমন কোনো বিচার হবে, যা দেখে পরের অপরাধী ভয় পাবে ছবির ক্যাপশন: লেখক : চৌধুরী লোকমান ব্যুরো প্রধান, বাংলা টিভি, চট্টগ্রাম
ad728

উপ সম্পাদকীয়

লেখক : চৌধুরী লোকমান

ব্যুরো প্রধান, বাংলা টিভি, চট্টগ্রাম

আছিয়া থেকে রামিসা

এই দেশে সত্যিই কি এমন কোনো বিচার হবে, যা দেখে পরের অপরাধী ভয় পাবে?

“আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। তারে সামলাব, নাকি রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরব!”

​এই আর্তনাদ আছিয়ার মায়ের।

​আছিয়ার কথা মনে আছে আপনাদের?

​আট বছরের ছোট্ট মেয়েটা… বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল, আদর পাওয়ার কথা ছিল। অথচ সেই ঘরেই বোনের শ্বশুরের পাশবিক লালসার শিকার হয়েছিল সে। ছোট্ট শরীরটা এত বড় নির্মমতা সইতে পারেনি। পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিল আছিয়া।

​সেদিনও দেশ কেঁপেছিল। ক্ষোভ ছিল, কান্না ছিল, প্রতিবাদ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল হয়েছিল। মানুষ বিচার চেয়েছিল।

​কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেছে।

আজও সেই ধর্ষক-খুনি হিটু শেখ বেঁচে আছে। আদালত, আপিল, শুনানি আর আইনের জটিল পথ পেরিয়ে রায়ের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। আর এক অসহায় মা আদালতের সিঁড়ি গুনছেন, বুকভরা শোক নিয়ে।

​আজ আবার আমরা উত্তাল রামিসার জন্য।

​আরও ছোট্ট, আরও নিষ্পাপ একটা মুখ। ছবিটার দিকে তাকালে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। একটা শিশু, যার চোখে থাকার কথা ছিল স্বপ্ন, যার হাতে থাকার কথা ছিল পুতুল আর রঙিন খাতা, সেই শিশুর দিকে তাকিয়ে কিভাবে জন্ম নেয় এমন পৈশাচিক চিন্তা?

​মানুষের শরীর থাকলেই কি মানুষ হওয়া যায়?

প্রতিবার একই গল্প। ভয়াবহতা ঘটে, আমরা শিউরে উঠি, রাস্তায় নামি, স্ট্যাটাস দিই, বিচার চাই। তারপর সময় যায়। মামলা চলে। আদালতের তারিখ পড়ে। আর ভুক্তভোগীর পরিবার বছরের পর বছর ধরে বহন করে এক অসমাপ্ত দুঃস্বপ্ন।

যে অপরাধের কথা স্বীকার করা হয়েছে, যে নৃশংসতা গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, সেই অপরাধের বিচার কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে? কেন একটি পরিবারকে শোকের পাশাপাশি লড়তে হবে আইনের দীর্ঘ করিডোরে?

​সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা কী জানেন?

আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যাই।

আমরা যেন গোল্ডফিশ জাতি। আজ উত্তাল, কাল নীরব। তারপর আরেকটা নাম যোগ হয় তালিকায়।

​তনু… আছিয়া… রামিসা… আর নাম না জানা কত শিশু, কত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, কত নিরীহ জীবন এই বিকৃত অমানুষগুলোর হাতে নিঃশেষ হয়ে যায়।

​প্রতিবার আমরা শুধু একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড়াই:

এই দেশে কি সত্যিই এমন কোনো বিচার হবে, যা দেখে পরের অপরাধী ভয় পাবে?

​নাকি আবারও সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে একটা শিশুর নাম, একটা মায়ের কান্না, একটা পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়া জীবন?


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন