কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
বেতন ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, বকেয়া এরিয়া ও ফুডিং বিল পরিশোধ, প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু এবং চাকরির নিরাপত্তাসহ ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইছানগর এলাকায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারী কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। প্রতিবারই দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে তাঁরা বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
কর্মচারীদের অভিযোগ, চাকরি স্থায়ী করার কথা বলা হলেও স্থায়ী হওয়ার পর একজন কর্মচারী যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তাঁরা তা পাচ্ছেন না। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও গত আগস্টে তাঁদের জানানো হয়, এ বছর আর ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে না। আগামী জানুয়ারি থেকে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ২০২৪ সালে একবার ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তাঁরা কোনো ইনক্রিমেন্ট পাননি।
কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ন্যূনতম ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, সাত মাসের বকেয়া এরিয়া বিল ও ফুডিং বিল পরিশোধ, প্রতিবছর যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা।
এ ছাড়া কারখানায় কোনো শ্রমিক আহত হলে তাঁর চিকিৎসার ব্যয় কোম্পানিকে বহন করা, চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করলে এক মাস কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিন মাসের বেতন দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে কর্মপরিবেশ আরও ভালো হবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
তাঁদের আরও অভিযোগ, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়েছেন।
প্রিমিয়ার সিমেন্ট কারখানার অ্যাডমিন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ইনক্রিমেন্টের বিষয়ে যাবতীয় কাগজপত্র হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। অফিস থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের আগে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন- ২০২৪ সালে দেওয়া হয়েছিল। তার আগে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই।
কারখানার জিএম মিজবাউল হকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট