নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুই পরিবারের স্বেচ্ছাচারিতায় ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েছে একটি গ্রাম্য এলাকা। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রামের রাজা তালুকদার বাড়ির প্রধান পথে কাঁটা বিছিয়ে ও ডালপালা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার অন্তত ১০০ পরিবারের বাসিন্দা।
স্থানীয় সামাজিক বৈঠক কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সিদ্ধান্ত, কোনো কিছুই মানছেন না অভিযুক্ত ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবার। ফলে দীর্ঘ এক বছর ধরে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ শত-শত মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ওই এলাকার রাজা তালুকদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকায় একমাত্র চলাচলের পথটি কাঁটা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সেই কাঁটার ওপর দিয়েই অত্যন্ত ঝুঁকি ও কষ্ট নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় সেখানে জড়ো হওয়া শতাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণ ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গত বছর চলন্ত বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় ছৈয়দুল হকের ছেলে শাহেদ গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর জেল খাটেন। এ ছাড়া তার ভাই কালা মিয়া ও নজরুল মাদক মামলার তালিকাভুক্ত আসামি।
এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কড়া হুঁশিয়ারি দিলে ক্ষিপ্ত হয় অভিযুক্ত পরিবার দুটি। এরপরই তারা পথটি নিজেদের জায়গা দাবি করে প্রধান ফটক আটকে কাঁটা বিছিয়ে দেয়। এতে দেলোয়ার হোসেন, আবদুস সবুর, শাহাদাত, কালু মিয়ার পরিবারসহ প্রায় ১০০টি পরিবার কার্যত বন্দী হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ৬৫ বছর বয়সী মো. মোজাহের বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই এই পথ দিয়ে আমরা যাতায়াত করছি। গত বছর সমাজের এক সালিশি বৈঠকে ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের ছেলেদের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় তারা রাস্তার মুখে কাঁটা দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।’
বৃদ্ধা লায়লা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কতভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তারা পথ থেকে কাঁটা সরায়নি। আমরা মেম্বারকেও জানিয়েছি, কোনো লাভ হয়নি।’
পথটি বন্ধ থাকায় এলাকার সামাজিক ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে। এমনকি কোনো বিয়ে-শাদির আয়োজন হলে আমরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি, কারণ বাড়িতে ঢোকার কোনো পথ নেই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি নিজে কয়েকবার সামাজিক বৈঠক ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছৈয়দুল হকের পরিবার ওই জায়গা নিজেদের দাবি করে কোনো সালিশ-বিচার মানছেন না।’
যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে বা বাধা সৃষ্টি করে কাউকে দুর্ভোগে ফেলার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট