ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বেতারের ফটো গ্যালারিতে স্থান পেল ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 9, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বেতারের ফটো গ্যালারিতে স্থান পেল ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি ছবির ক্যাপশন: ওস্তাদ অমিতাভ-পায়রা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আকতার এবং উপ-আঞ্চলিক পরিচালক তাব্বাসুম হকের হাতে ওস্তাদজীর এই দুর্লভ ছবিটি তুলে দেন।
ad728

বার্তা প্রেরক | রতন বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

​বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের ফটো গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি।

​সম্প্রতি ওস্তাদ অমিতাভ-পায়রা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আকতার এবং উপ-আঞ্চলিক পরিচালক তাব্বাসুম হকের হাতে ওস্তাদজীর এই দুর্লভ ছবিটি তুলে দেন।

​ছবি হস্তান্তরকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার কন্যা ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী পাপিয়া বড়ুয়া, ফাউন্ডেশনের সদস্য ও সাংবাদিক রতন বড়ুয়া এবং চ্যানেল আই তারকা সংগীত শিল্পী জনি বড়ুয়া। ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার ছবি গ্রহণ করায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বেতার কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

​সংগীতে নিবেদিতপ্রাণ ও নিভৃতচারী এই সঙ্গীতজ্ঞ ১৯২৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা হলধর বড়ুয়া এবং মা বঙ্গবালা বড়ুয়া। ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হলেও সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

​উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তাঁর গুরু ছিলেন ওস্তাদ মকসুদ আলী খান এবং ওস্তাদ ফজলুল হক। তিনি দীর্ঘদিন ‘প্রাচ্য ছন্দগীতিকা’ এবং ‘শ্বাশত ললিতকলা একাডেমি’-তে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া অধ্যক্ষ হিসেবে প্রথমে ‘সঙ্গীত পরিষদ’ এবং আমৃত্যু ‘সুরসপ্তক সংগীত বিদ্যাপীঠ’-এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালের ৭ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ স্টেশন চালুর দিন থেকে তিনি গীতিকার ও শিল্পী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় গণমাধ্যম বেতার ও টেলিভিশনের বিচারকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

​তাঁর লেখা চট্টগ্রামের বিখ্যাত আঞ্চলিক গান "গুরা বউ সইন্ধ্যাকালে চেরাগ দিতো গেইল" শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সংগীতে তাঁর উল্লেখযোগ্য শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন দিলারা আলো, আরেফিন হক আলো, কল্যানী ঘোষ, মিনতি পাল, মানস পাল চৌধুরী, সুলতানা শারমিন ও পাপিয়া আহমেদ

​সঙ্গীতের পাশাপাশি সাহিত্য জগতেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। ‘মহুয়া’ ছদ্মনামে তিনি প্রচুর গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘প্রভাতী’ ও ‘বহ্নিশিখা’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘গীতিশতক’ (গানের সংকলন) এবং জীবনীগ্রন্থ ‘জ্ঞানতাপস’ উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া তাঁর রচিত উপন্যাস ‘গল্প তেরশ সাতাত্তর’, ‘পাথেয়’ ও ‘ঝরাফুল’ বিভিন্ন দৈনিকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

​জীবদ্দশায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টিপ্রচার সংঘ তাঁকে ‘গীতশ্রী’ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে। এছাড়া চট্টল ইয়ুথ স্কয়ার, মহামুনি সাংস্কৃতিক সংঘ ও রাউজান সরগম সঙ্গীত বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মাননা জানায়।

​ব্যক্তিজীবনে ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া সবিতা বড়ুয়া পায়রার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁরা ৪ পুত্র ও ৪ কন্যার জনক-জননী। তাঁর সন্তানদের মধ্যে অনুভব বড়ুয়া ফ্রান্স প্রবাসী ও ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত তবলা শিল্পী এবং কন্যা পাপিয়া বড়ুয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।

২০০৭ সালের ১১ জুলাই এই গুণী শিল্পী ও সাহিত্য সাধক পরলোকগমন করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন