নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। ফলে আন্দোলন ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাদের যেখানে শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় আন্দোলন করতে হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরির দাবি জানান তারা।
এর আগে, সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্দোলনের ১৪তম দিনেও চুয়েটে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত থাকে। ওই দিন বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করেন তারা। র্যালিটি স্বাধীনতা চত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আমরা আন্দোলন করে আসছি। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবন যেন বিলম্বিত না হয়।
তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত অহিংসভাবে আন্দোলন করছি। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক।
এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এরপর ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ, লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
দাবি পূরণ না হওয়ায় চুয়েটে এখনো অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্দোলন ক্যাম্পাসের বাইরে গড়ানোর পর শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট