নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রামে ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬৯ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নগরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পেইন চলবে। জানা গেছে, নগরে চসিক ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করবে। নগরে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এতে ২ হাজার ৬৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন আজাদীকে বলেন, নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে পথশিশুদেরও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নগরের কোনো শিশুই যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ক্যাম্পেইন শেষে কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ পড়লে তাদের অভিভাবকদের নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ রাখা হবে বলেও জানান মেয়র।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরের বাইরে জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৭৯ জন শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জন শিশুসহ মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম জেলায় ১৭টি স্থায়ী ও ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের জন্য ১ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ১ লাখ ২ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ২ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল মজুত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট