খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
গত শুক্রবার ভোর রাতের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কৃষক প্রিয়দর্শী চাকমার প্রায় এক লাখ টাকার ফসল ও চারা নষ্ট হয়েছে। মাইনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি কমে গেলেও পলি ও কাদার নিচে চাপা পড়ে গেছে বেগুনি ভুট্টার চারা এবং শীতকালীন আগাম ফুলকপির চারা। এতে চাষির স্বপ্নের ফসল এখন পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার পথে।
কৃষক প্রিয়দর্শী চাকমা জানান, মাইনী নদীর তীরে তিনি বেগুনি ভুট্টা ও আগাম ফুলকপির চারা উৎপাদন করছিলেন। শুক্রবার ভোর রাতের পাহাড়ি ঢলে তার সবজি ক্ষেত তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা যায়, পুরো জমিতে পলি ও কাদার পুরু স্তর জমেছে। এর নিচে চাপা পড়ে গেছে ভুট্টা ও ফুলকপির চারা।
তিনি বলেন, বেগুনি ভুট্টার বীজের দাম প্রতি কেজি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা। এছাড়া আগাম ফুলকপির চারার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জমি, বীজ, চারা ও অন্যান্য খরচসহ তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানান তিনি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র এক দিনের পাহাড়ি ঢলে মাইনী নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার আমন ধানের ক্ষেতও পানিতে ডুবে যায়। তবে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় আমন ধানের তেমন বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও চারা ছিল। পলি-কাদার আস্তরণ পড়ে এসব ক্ষেত কার্যত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় এক একর জমির আগাম ফুল কপি ও ভুট্টা ক্ষেত পাহাড়ি ঢলে পলি পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গত জুলাই মাসেও ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছিল। সেই ক্ষতির ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
ব্লক সুপার ভাইজান অনামিকা মিত্র বলেন, প্রিয়দর্শি চাকমা একজন আর্দশ কৃষক, তিনি নিরাপদ কৃষি নিয়ে কাজ করেন, আমরা তার খোঁজ খবর নিয়েছি, তার কৃষি জমি মাইনী নদীর তীরে হওয়ার সব্জি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
কৃষকদের মতে, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বারবার পাহাড়ি ঢল ও পলি জমার কারণে চাষাবাদ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি মাইনী নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
কৃষক প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, কৃষকের জীবিকার সঙ্গে এসব ফসলের সরাসরি সম্পর্ক। একদিনের পাহাড়ি ঢলে তাদের কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া গত মাসে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষয় না শুকাতেই দ্বিতীয় দফায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রিয়দর্শি চাকমা একজন আর্দশ কৃষক, তিনি সবসময় কীটনাশক মুক্ত কৃষি নিয়ে কাজ করে এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন করে। তার যে ক্ষতি হয়েছে তার আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট