ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দাদার কবরের পাশে শায়িত সেই স্কুলছাত্রী, শোকে বাকরুদ্ধ বাবা-মা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 9, 2026 ইং
দাদার কবরের পাশে শায়িত সেই স্কুলছাত্রী, শোকে বাকরুদ্ধ বাবা-মা ছবির ক্যাপশন: দাদার কবরের পাশে শায়িত সেই স্কুলছাত্রী, শোকে বাকরুদ্ধ বাবা-মা
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রীর (১৫) মরদেহ যশোরে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সদরের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে গভীর রাতে তাজমিনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাবা যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লা শহরে বসবাস করত ওই কিশোরী। সেখানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। এ ঘটনায় সুমন নামের এক অটোরিকশাচালককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহত কিশোরীর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ তার বাবা-মাসহ স্বজনরা। স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বজনদের ছবি তুলতে গেলে কিশোরীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শুরু করেন, ‘কী হবে এসব ছবি তুলে! আমার কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে; এখন আর কিছু বলব না।’

আহাজারি করতে করতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার পাখির সঙ্গে সবশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয়। তখন সে বলে, আমি আমার বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছি। বান্ধবীর বাড়িতে আছি।’ তখন আমি তাকে প্রশ্ন করি, ‘তোর সেই বান্ধবীর নাম কী? বাবা-মায়ের নাম কী?’ তখনও সে কিছু বলেনি।’

নিহত স্কুলছাত্রীর মা তা বান্ধবীর দিকে অভিযোগের তীর ছোড়েন। দাবি করেন, তাকেই ধরলেই এই হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে। প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও।
কিশোরীর বাবা কুমিল্লা শহরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। একমাত্র সন্তানকে এভাবে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি। তিনি বলেন, ‘৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সে মেসেজ এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে।’

তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’
নিহত কিশোরীর বাবা বলেন, ‘এখন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চাই না। আমার মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছে, কারা তাকে হত্যা করেছে, পুরো ঘটনা জানতে চাই। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানাই।’

স্থানীয়রা জানান, ওই কিশোরীর আর কোনো ভাই-বোন নেই। সে খুব মেধাবী ছিল। বিভিন্ন ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামে বেড়াতে আসত। জেদি প্রকৃতির ছিল। এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রত বিচারের দাবি জানান তারা।

পুলিশ জানায়, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে যায় সে। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানায়।
পদুয়ার বাজারে নামার পর ওই কিশোরী কীভাবে লালমাইয়ের ওই স্থানে গেল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।

তিনি বলেন, ‘নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়েও তদন্ত চলছে। আমরা অটোরিকশা ধরে তদন্ত এগোচ্ছি।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘটনাস্থল ধানক্ষেতজুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিশোরীকে হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪-৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। দেখেই বোঝা গেছে, ওই কিশোরী জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।’

এ ঘটনায় নিহতের বাবা লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এরইমধ্যে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সিএনজিচালক সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য