কামরুল সিফাতউল্লাহ | চট্টগ্রাম
সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তে ভেসে যাওয়া একটি প্রাণ কি কেবল একটু চিকিৎসার অভাবে নিভে যাবে, নাকি সময়মতো সেবাবঞ্চিত হওয়ার সেই করুণ ইতিহাস আজ থেকে সত্যি চিরতরে বদলে গেল?
জরুরি অবস্থায় সরকারি কিংবা বেসরকারি—যে কোনো হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে বা জরুরি চিকিৎসা প্রদান এখন আর কেবল কোনো মানবিক আহ্বান নয়, বরং আইনের বাধ্যবাধকতা। হাইকোর্টের ঐতিহাসিক এই রায়ের ফলে দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে আইনিভাবে বাধ্য থাকবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। নির্দেশনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের স্পষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর নিকটস্থ যে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে যেন তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা যায়, সেই অনুযায়ী বিধিমালা প্রণয়নেরও কড়া নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।
বহু পরিবার স্বজন হারিয়েছে শুধু হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে সঠিক সময়ে সেবা না পেয়ে। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি অসংখ্য অমূল্য প্রাণ বাঁচাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট