ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির টোল ইজারা স্থগিত, প্রশাসকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 19, 2026 ইং
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির টোল ইজারা স্থগিত, প্রশাসকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির টোল ইজারা স্থগিত, প্রশাসকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ad728
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের টোল আদায় পয়েন্টের ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযোগের মুখে ইজারা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দরদাতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব এলাহীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ভুক্তভোগী দরদাতা সৈয়দ আকাশ অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন টোল আদায় পয়েন্ট ইজারার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে প্রায় ১৪০ জন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। দরপত্রের ফরম বিক্রির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় দেড় লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে।

তিনি জানান, নিলাম কার্যক্রমে সর্বোচ্চ দর ওঠে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর ছিল ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা পরে ইজারা নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

সৈয়দ আকাশের দাবি, “আমি ৮০ লাখ টাকায় ইজারা নিতে সম্মতি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা বিবেচনা না করে খাস কালেকশনের নামে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে সরকারের রাজস্ব আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

অভিযোগে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ দর উপেক্ষা করে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে মাত্র ৬২ লাখ টাকায় ইজারা কার্যক্রম চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে সরকার সম্ভাব্য প্রায় ৫৮ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দরদাতা বলেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে অংশগ্রহণ করেছি এবং প্রতিযোগিতামূলক দর দিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো নিলাম প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দর বিবেচনায় না নিয়ে গোপনে অন্যত্র ইজারা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তাদের অভিযোগ, শতাধিক অংশগ্রহণকারীকে উৎসাহিত করে বিপুলসংখ্যক দরপত্র ফরম বিক্রি করা হলেও পরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিতর্কিত ইজারা কার্যক্রম বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত নিলাম আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব এলাহী বলেন, “টোল আদায় পয়েন্টের ইজারা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হবে।”

তবে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি কিংবা সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে টেন্ডার স্থগিতের ঘোষণার পরও পুরো ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের আগে পূর্ববর্তী নিলাম প্রক্রিয়ায় কেন সর্বোচ্চ দর উপেক্ষা করা হয়েছিল এবং কার স্বার্থে কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—সেসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ইউনিয়নবাসী ও সাধারণ জনগণের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে তা নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের