ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল, বাড়ছে জাহাজশ্রমিক ও জেলেদের বিরোধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 6, 2026 ইং
নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল, বাড়ছে জাহাজশ্রমিক ও জেলেদের বিরোধ ছবির ক্যাপশন: নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল, বাড়ছে জাহাজশ্রমিক ও জেলেদের বিরোধ
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য নিয়ে ছুটে চলে লাইটার জাহাজ। কিন্তু নৌ-চ্যানলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল পেতে রাখাকে কেন্দ্র করে দিন দিন বাড়ছে জাহাজশ্রমিক ও জেলেদের বিরোধ।
চলন্ত জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে যাওয়ায় মাঝপথে থামিয়ে জাল কেটে বা খুলে এগোতে হয়। আর জাল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলে জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছেন জেলেরা। কোথাও হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

জাহাজ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেলে পাড়া-পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল-কুতুবদিয়া, সি বিচ-ভাসানচরসহ বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে জাল পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। এসব জাল অনেক সময় পানির নিচে থাকায় নাবিকদের চোখে পড়ে না। ফলে জাহাজের প্রপেলারে জড়িয়ে যায় জাল। তখন জাহাজ থামিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে জাল অপসারণ করতে হয়। 
চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক প্রায় তিন হাজার লাইটার জাহাজ, অয়েল ট্যাংকার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। এর মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন লাইটার জাহাজ প্রায় ১ হাজার ৮০০টি। পাশাপাশি শত শত বিদেশি মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। এসব জাহাজের অনেককেই একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি লাইটার জাহাজের ক্যাপ্টেন ইলিয়াস মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাধারণত বড় ধরনের দুর্ঘটনা খুব একটা ঘটে না। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে যায়। তখন দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে নাবিকদেরই জাল খুলতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও জানানো হয় না।

তিনি বলেন, গত ছয় দিনেই আমি দুইবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। শুধু এ দুটি ঘটনায় প্রায় ১৫ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। জাহাজের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায়, বাড়ে পরিচালন ব্যয়।
আরেকটি লাইটার জাহাজের ক্যাপ্টেন বলেন, সাগরের শুরু থেকে আউটার অ্যাংকারেজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় জাল পেতে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো সমন্বিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জাহাজশ্রমিকদের অভিযোগ, জাহাজের সঙ্গে জাল আটকে ছিঁড়ে গেলে ক্ষতির অভিযোগ তুলে অনেক সময় জেলেরা মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকদের ঘিরে ফেলেন। কোথাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জাহাজে ভাঙচুর কিংবা জোরপূর্বক আটকে রাখার ঘটনাও ঘটছে।

সম্প্রতি ভাসানচর এলাকায় দুটি লাইটার জাহাজের একজন মাস্টার ও একজন সুকানিকে জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগের পর জাহাজশ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।

চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপনকে শুধু মাছ ধরার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে জাহাজ চলাচল, নৌ-নিরাপত্তা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, যেসব নৌ-চ্যানেল দিয়ে নিয়মিত জাহাজ চলাচল করে, সেসব এলাকায় আলাদা নিরাপদ নৌ-করিডোর নির্ধারণ করতে হবে। ওই করিডোরে সব ধরনের জাল ও মাছ ধরার ফাঁদ নিষিদ্ধ করতে হবে। 

পাশাপাশি অবৈধ জাল অপসারণে কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নৌ-বাহিনী জাহাজ চলাচলের পথরেখা নির্ধারণ করে দিলে ওই পথে জাল বসানোর সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে কী অগ্রগতি হয়েছে, সেটি এখনো আমার জানা নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নৌ-চ্যানেলে জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, নৌ-পথে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা জাহাজের শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না