এম মনির চৌধুরী রানা
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি ফ্যাক্টরিতে চুরির অভিযোগে আটক এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
নিহত হাসমত আলী পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাকুরা কালারপুল এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি। তার তিন সন্তান রয়েছে— জিহাদ (১০), নিহাত (৮) ও ফাহাদ (৪)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে বোয়ালখালীর বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করলে হাসমত আলীকে আটক করা হয়। পরে তাকে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, ফ্যাক্টরির ভেতরে তাকে বেধড়ক নির্যাতন করা হয় এবং আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়। এ সময় তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ভোর রাতে ঘটলেও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসমত আলীকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আটক ব্যক্তির ওপর নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় নিহতের মা মাজমা বেগম বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন— ফ্যাক্টরির এইচআর ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন, জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মো. মনিরুল ইসলাম এবং সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেন।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাফুজুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বাকপ্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট