ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাবার মৃত্যুর ৪০ দিনেই দুই ভাইয়ের লড়াই, চক্ষু হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 29, 2026 ইং
বাবার মৃত্যুর ৪০ দিনেই দুই ভাইয়ের লড়াই, চক্ষু হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছবির ক্যাপশন: ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন চেয়ে ভাই রাজীব হোসেনের বিরুদ্ধে রিয়াজ হোসেনের হাইকোর্টে মামলা।
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক |চট্টগ্রাম


চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডক্টর রবিউল হোসেনের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা পর্ষদ কেন্দ্র করে তাঁর দুই পুত্রের পারিবারিক ও আইনি দ্বন্দ্বে দেখা দিয়েছে নতুন উত্তাপ। মৃত্যুর চল্লিশ দিন পার হওয়ার আগেই এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে আরেক ভাইয়ের হাইকোর্টে মামলা করার তথ্য সামনে আসার পর, সংশ্লিষ্ট ও বিশিষ্টজনদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

​চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে ম্যানেজিং ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডক্টর রবিউল হোসেন। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি এবং দেশি-বিদেশি অনুদানে চট্টগ্রাম অন্ধ কল্যাণ সমিতি নামের এই ট্রাস্টের পরিধি বৃদ্ধি পায়।

​পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের অভ্যন্তরে চিকিৎসকের পরিবার বসবাস শুরু করেন, যার মধ্যে এক পুত্র ডক্টর রাজীব হোসেন হাসপাতালটিতে দায়িত্বে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির অর্থায়ন, ব্যাংকের ঋণ এবং চক্ষু হাসপাতালের ব্যাংকিং সহায়তায় গড়ে ওঠে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ডক্টর রবিউল হোসেনের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা, যা চক্ষু হাসপাতালের ফান্ড থেকেই পরিশোধিত। বিপরীতে, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা হাসপাতালটিতে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছিলেন।

​ডক্টর রবিউল হোসেন জীবিত থাকাকালেই অপর পুত্র রিয়াজ হোসেনকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ট্রাস্টি ও পরিচালকদের সিদ্ধান্তে তাঁকে পদচ্যুত করা হলে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নানা আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

​বর্তমানে ডক্টর রবিউল হোসেনের প্রয়াণের পর, সেই দ্বন্দ্ব গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সে থাকা ভাই ডক্টর রাজীব হোসেনকে বাদ দিয়ে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে হাইকোর্টে একটি কোম্পানি ম্যাটার মামলা (মামলা নম্বর: ৫১২/২০২৬) দায়ের করেছেন রিয়াজ হোসেন।

​মামলাটির বাদী হিসেবে রয়েছেন—

​রিয়াজ হোসেন

​ডক্টর কাজী মোহাম্মদ অহিদুল আলম

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান এবং

​রেজোয়ান শাহিদী।


​অন্যদিকে, মামলায় ডক্টর রাজীব হোসেন ছাড়াও ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিদ নবী, এম এ মালেক, ওয়াহিদ মালেক ও সিএফওসহ কয়েকজনকে বিবাদী বা আসামীর তালিকায় রাখা হয়েছে।

​আবেদন অনুযায়ী— বর্তমান পর্ষদের এম এ মালেক, ওয়াহিদ মালেক, রাজীব হোসেন, শওকত হোসেন ও রবিউল হোসেনের নাম বাদ দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান, ডক্টর অহিদুল আলম, আলহাজ্ব জোহা চৌধুরী, রিয়াজ হোসেন, এ কে এম আরিফ উদ্দীন, একরামুল হক ও রেজোয়ান শাহিদীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

​হাইকোর্টের বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর আদালত আগামী ১৬ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করে বিবাদীদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ ও সমন জারি করেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য