ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিদেশি বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার তাগিদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
বিদেশি বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার তাগিদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ছবির ক্যাপশন: বিদেশি বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার তাগিদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। 

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। 

একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। 
এ সময় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড-এআরটি) স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতায় শুল্ক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্নীতি হ্রাস, আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং আমদানি-রপ্তানিতে বিভিন্ন অশুল্ক বাধার কথা উল্লেখ করে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, খাদ্যপণ্য আমদানিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার মতো কিছু বিধিনিষেধ দূর করা গেলে পণ্য খালাস দ্রুত হবে। এতে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যও আরও গতিশীল হবে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এলএনজি সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এ ছাড়া পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মডুলার পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিপণ্য, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতেও বাণিজ্য সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বাংলাদেশের মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস খাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আধুনিক এভিয়েশন লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা গেলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় লজিস্টিকস খাতে। এ খাতে মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই ব্যয় ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে মনে করেন চেম্বার সভাপতি।

চট্টগ্রামে তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) এবং একটি বৃহৎ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে উল্লেখ করে আমিরুল হক বলেন, এসব অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা প্রয়োজন। ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনেও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, উচ্চপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, চেম্বারের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম এ সালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদ, রাহবার এ আনোয়ার, রকিবুর রহমান টুটুল, বর্তমান পরিচালক আকতার পারভেজ, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরআলী হোসেন এবং সানশাইন গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ সাফিয়া রহমান গাজী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চেম্বারের বর্তমান সহসভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, পরিচালকবৃন্দ এবং মার্কিন দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক অ্যাটাশে লীনা খান, অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জন ব্রান্সডেল, নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা অ্যারিক ওয়েলস ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ আসিফ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা