ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 10, 2026 ইং
বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি ছবির ক্যাপশন: বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 
বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চট্টগ্রামে শ্রমিক সমাবেশ হয়েছে। একই সঙ্গে কন্ট্রাক্টর ও আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল এবং শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) নগরের প্রবর্তকের মোড়ে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত।
তপন দত্ত জানান, দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত গত প্রায় সাড়ে চার দশকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিপুলসংখ্যক মানুষকে সেবা দিচ্ছে। এ খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা করলেও তাদের বড় একটি অংশ ন্যায্য মজুরি ও শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে মজুরি বোর্ড থাকলেও বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য এখনো মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়নি। তাই দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে এ খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
তপন দত্ত আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে পরিবার নিয়ে একজন শ্রমিকের পক্ষে জীবনযাপন করা অসম্ভব। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়েই চলেছে। অথচ অনেক বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক-কর্মচারীরা এখনো নামমাত্র বেতনে কাজ করছেন।

টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক, ছুটি, ওভারটাইম ভাতা, উৎসব বোনাস, ভবিষ্য তহবিল, বিমাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এসব সুবিধা যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, অনেক শ্রমিককে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত সময়ের জন্য আইনানুগ পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অনিয়ম বন্ধে শ্রম অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
ইফতেখার কামাল খান বলেন, অভিজ্ঞ এইড নার্স ও টেকনিশিয়ানরা দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে কন্ট্রাক্টর ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে শ্রমিকরা নামমাত্র মজুরি পাচ্ছেন এবং শ্রম আইনে প্রাপ্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই কন্ট্রাক্টর ও আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল করতে হবে।
এসময় অন্য বক্তারা বলেন, বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছেন। অথচ তাদের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচিতে টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, সংগঠনের সাবেক সভাপতি বিকাশ বসু, কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হানিফ, ইনসাব চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি আনিসুর রহমান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা বিপ্লব চক্রবর্তী, সুপর্ণা বড়ুয়া, মোকাদ্দেসা খানম, আকতার হোসেন, মিঠুন বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

পরে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা লাল পতাকা মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মাহবুবের রহমানের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অভিজ্ঞ এইড নার্স ও টেকনিশিয়ানদের চাকরির ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, কন্ট্রাক্টর ও আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল এবং শ্রম আইন ও শ্রমবিধি অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন