ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে খোলা চিঠি: বন্যাবিধ্বস্ত বাঁশখালীর আর্তনাদ ও স্থায়ী সমাধানের আকুল আবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 11, 2026 ইং
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে খোলা চিঠি: বন্যাবিধ্বস্ত বাঁশখালীর আর্তনাদ ও স্থায়ী সমাধানের আকুল আবেদন ছবির ক্যাপশন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে খোলা চিঠি: বন্যাবিধ্বস্ত বাঁশখালীর আর্তনাদ ও স্থায়ী সমাধানের আকুল আবেদন
ad728
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

​চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি রইল সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা।

​টানা পাঁচ দিনের অতিভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালী আজ এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন দুর্যোগের মুখোমুখি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, চলমান এই চরম সংকটের দিনেও কোনো মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রতিনিধি এই দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। ফলে এখানকার বিপর্যস্ত মানুষের জন্য এখনো বিশেষ কোনো জরুরি ও সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

​বর্তমানে বাঁশখালীর ভৌগোলিক অবস্থান এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক আকার ধারণ করেছে। উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন পানির নিচে। টানা তিন দিন ধরে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের লোনা পানিতে মানুষের বসতভিটা তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে হাজার হাজার একরের ক্ষেতখামার, ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি ফার্ম এবং মৎস্য প্রকল্প। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে।

​ইতিমধ্যেই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য সুপেয় পানি, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, খাবার স্যালাইন ও বস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে কিছু সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে জেলা পরিষদ কর্তৃক  কিছু ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই চরম মানবিক বিপর্যয়ে আপনার পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাঠানো আজ সময়ের দাবি।

​দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বাঁশখালীবাসীর সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার সদয় অবগতি ও জরুরি নির্দেশনার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

​স্বাস্থ্য ও সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলা: বন্যার পানি নামতে শুরু করার পর থেকে মানুষের আবাসন সংকট তীব্র হবে এবং সুপেয় পানির হাহাকার তৈরি হবে। এ সময় ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এই মহামারি ঠেকাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর) এখনই পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

​যোগাযোগ অবকাঠামো মেরামত: বন্যার পানিতে উপজেলার অধিকাংশ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট ও কালভার্ট ধসে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডি যাতে দ্রুত সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করে, সে বিষয়ে আপনার দূরদর্শী নির্দেশনা প্রত্যাশা করছি।

​সাইক্লোন শেল্টার ও আবাসন পুনর্নির্মাণ: দুর্গত এলাকার অধিকাংশ মাটির বাড়িঘর সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অথচ এই জনপদে প্রায় ৩৫ বছর আগে নির্মিত সাইক্লোন শেল্টারগুলো বর্তমানে একেবারেই জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন এবং আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।

​স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ (দীর্ঘমেয়াদি সমাধান): বাঁশখালীবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় স্থায়ী ঝুঁকি হলো ভঙ্গুর ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যদি অনতিবিলম্বে এখানে একটি টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মহাপ্রকল্প হাত না নেয়, তবে আগামীতে প্রায় দশ লাখ মানুষের এই জনপদ চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

​মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
বিপর্যয়ের এই মহাসংকটে প্রায় দশ লাখ মানুষের প্রাণপ্রিয় জনপদ বাঁশখালী আজ আপনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং সদয় দৃষ্টি কামনা করছে। আপনার দক্ষ, মানবিক ও গতিশীল নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাঁশখালীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই স্থায়ী সংকট দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এই আমাদের আকুল আকুতি।

​বিনীত,
​আলমগীর মোহাম্মদ
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও অনুবাদক
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন