ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 25, 2026 ইং
৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: ৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগ
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

মিশরের দুটি খ্যাতনামা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওরাসকম কনস্ট্রাকশন ও দ্য আরব কন্ট্রাক্টরসের প্রতিনিধি পরিচয়ে চসিকের সঙ্গে চুক্তি করা ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠান দুটির অনুমোদিত প্রতিনিধি নন বলে ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারকে জানায়। এরপরই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় চসিক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মনোরেল প্রকল্প-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়।

চসিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুন ‘আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’ এর পক্ষে দাবি করে কাউসার আলম চৌধুরী চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সহযোগিতাও চাওয়া হয়। বিষয়টি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের আলোচনাতেও স্থান পায়।
তবে গত ২২ জুন ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডাকে জানায়, কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে ওরাসকম কনস্ট্রাকশন কিংবা দ্য আরব কন্ট্রাক্টরসের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক, চুক্তিভিত্তিক বা অনুমোদিত সম্পর্ক নেই। তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষে কোনো আলোচনা, চুক্তি স্বাক্ষর বা প্রকল্প প্রচারের অনুমোদনও পাননি।

দূতাবাসের এই বার্তার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি চসিককে অবহিত করে। পরদিনই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশ্বখ্যাত দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। অথচ তাদের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা প্রতিনিধিত্বের আইনগত নথি ছিল না।

অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, কথিত ‘আরব কন্ট্রাক্টরস-ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুধু চট্টগ্রামের মনোরেল প্রকল্প নয়, খুলনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ও মোংলা বন্দরে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

এ প্রকল্প ঘিরে আলোচনায় এসেছে গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের নামও। সংগঠনটির সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। একই সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলী নাজির শাহীন। ফলে প্রকল্পটির পেছনের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চসিকের কর্মকর্তারা বলছেন, মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই সমঝোতা স্মারকটি করা হয়েছিল। এতে সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক ব্যয় হয়নি। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ায় চুক্তি বহাল রাখার সুযোগ ছিল না।
এদিকে চুক্তি বাতিলের ঘটনায় মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কীভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বের দাবি যাচাই না করেই এত বড় প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন