ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৬ বছর ধরে পরিবেশ-সিডিএ চিঠি চালাচালিতে ১৬ পাহাড়ের ভগ্নদশা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 6, 2026 ইং
৬ বছর ধরে পরিবেশ-সিডিএ চিঠি চালাচালিতে ১৬ পাহাড়ের ভগ্নদশা ছবির ক্যাপশন: ৬ বছর ধরে পরিবেশ-সিডিএ চিঠি চালাচালিতে ১৬ পাহাড়ের ভগ্নদশা
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডে খাঁড়াভাবে কাটা ১৬ পাহাড় রক্ষায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চিঠি চালাচালিতে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে পাহাড়গুলো। এর মধ্যে তিনটি পাহাড়ে শুরু হয়েছে ধস।

পাহাড় ধসে সলিমপুর সংযোগ মুখে সড়কটির একপাশ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সিডিএ বলছে, প্রকল্প শেষ হলেও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ধসের মুখে থাকা ১৬ পাহাড় ব্যবস্থাপনা ঝুলে আছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনের জন্য প্রায় ২৯ বছর আগে মূল শহরের প্রবেশদ্বারের সঙ্গে সংযুক্ত করে বাইপাস সড়ক করার উদ্যোগ নেয় সিডিএ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট টোল রোডের মুখ থেকে বায়েজিদ বোস্তামী পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয় ৯২০ কাঠা জমি।
দীর্ঘ সময় পরে মূল বাইপাস সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলে ২০১৯ সালের ১২ মে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রকল্পটির জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র দেয়। প্রকল্পের আওতায় একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজসহ ছয়টি ব্রিজ এবং কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যেই প্রকল্পের ছয় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য কাটা হয় ১৬টি পাহাড়। তবে শহরের একপ্রান্তে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় পাহাড়গুলো কাটার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সমালোচনা ছিল না।

পরবর্তীসময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেপরোয়া পাহাড় কাটার তথ্য উঠে এলে নড়েচড়ে বসে পরিবেশ অধিদপ্তর। ২০২০ সালের শুরুতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানতে পারেন, একেবারে নতুন রাস্তাটি নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিলেও অনুমোদনের চেয়ে চারগুণ বেশি পাহাড় কেটে ফেলে সিডিএ। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমোদন নিয়ে ১০ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটে সিডিএ।
ওই ঘটনায় ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি সিডিএকে শুনানিতে ডাকে পরিবেশ অধিদপ্তর। শুনানিতে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পাহাড় কেটে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, পাহাড়ের উপরিভাগের মাটি ও ভূমির বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি নষ্টসহ পরিবেশ-প্রতিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
শুনানি শেষে সিডিএকে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৩ টাকা জরিমানা করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) রুবিনা ফেরদৌসী। পরে জরিমানার বিষয়টি নিয়ে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আপিল করে সিডিএ।
সিডিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের সড়ক নির্মাণের জন্য পাহাড়গুলো ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটা হয়। খাঁড়া অবস্থার কারণে নতুন করে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাহাড়গুলো ঝুঁকিমুক্ত করতে ফের তিন লাখ ৩২ হাজার ঘনমিটার পাহাড় কাটার অনুমতি চায় সিডিএ। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ পরিবেশ অধিদপ্তরে নতুন করে আবেদন করে সংস্থাটি।

এসময় ১৬টি পাহাড় ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে কাটার জন্য প্রস্তাবনা দিলেও তা না করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদন চাওয়া হলেও ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পাহাড় কাটার অনুমতি মেলেনি। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো কাটা ও সংরক্ষণ কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতসহ প্রতিবেদন চায় পরিবেশ অধিদপ্তর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য