মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুলের সাতজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। বাকি ছয়জন অকৃতকার্য হয়েছেন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষক পরিষদ, মিরসরাই উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকার বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। ফলাফল খারাপ হলে এর কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিশেষ করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের বাড়তি একাডেমিক সহায়তা দিতে হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুন চন্দ্র নাথ বলেন, এবারের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। এর পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ ও পারিবারিক পরিবেশসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তাঁরা অভিভাবকদের কথাও শোনে না।
প্রধান শিক্ষক বলেন, তাঁর ইচ্ছা ছিল দুর্বল শিক্ষার্থীদের এক বছর রেখে পরবর্তী বছরের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু অভিভাবকদের চাপে সাতজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অরুন চন্দ্র নাথ আরও বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও সরকারের শিক্ষা নীতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য আগের মতো শাসন করা যায় না। বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এর আগে এমন ফলাফল হয়নি।
তিনি বলেন, কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বেশি সমস্যা হয়েছে, নিয়মিত ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কেমন ছিল এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে কোথায় ঘাটতি ছিল, তা বিশ্লেষণ করা হবে। এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আগামী বছর ফলাফল উন্নত করা সম্ভব হবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট