ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দর-জ্বালানি ইস্যুতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 6, 2026 ইং
চট্টগ্রাম বন্দর-জ্বালানি ইস্যুতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন তথ্য উপদেষ্টা ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রাম বন্দর-জ্বালানি ইস্যুতে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন তথ্য উপদেষ্টা
ad728

নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর আপত্তি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারির বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

 

তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রাষ্ট্র ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণকে বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বন্দর পরিচালনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের আশ্বস্ত করা হবে।

 

শুধু আন্দোলনের কারণে জনকল্যাণমূলক কোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে যাবে না বলেও জানান তিনি।

এ সময় বিএনপি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বন্দর পরিচালনা বিদেশিদের দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল—বর্তমান সরকারের অবস্থানের সঙ্গে এর কোনো পার্থক্য আছে কি না জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে বিএনপির অতীত অবস্থান যাচাই করে পরে জানানো হবে।

 

তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত এখনই নয়

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কমে আসায় দেশে এর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার ভিত্তিতে দেশে জ্বালানির দাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

 

তার ভাষ্য, আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবার তা বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তাই বিশ্ববাজারে কম দাম দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমার প্রবণতা স্থায়ী হলে দেশের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা কতটা টেকসই, তা দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ পড়ে বলে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। এতে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে এবং ব্যবসা-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

এদিকে অক্টোবর মাসে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ