ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্য না পাওয়ায় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ অলস পড়ে থাকে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2026 ইং
উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্য না পাওয়ায় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ অলস পড়ে থাকে ছবির ক্যাপশন: উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্য না পাওয়ায় প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ অলস পড়ে থাকে
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 
৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩১টি রিফাইন্যান্স ও প্রি-ফাইন্যান্স প্যাকেজ চলমান থাকলেও পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে প্রকৃত উদ্যোক্তারা অনেক সময় সুযোগ-সুবিধার সঠিক তথ্য পান না। ফলে বহু প্রণোদনা প্যাকেজের বিশাল অঙ্কের অর্থ অলস পড়ে থাকে।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু বে-ভিউ হোটেলে আয়োজিত বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্যাকেজ যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অংশীজনদের সঙ্গে গভর্নরের এ মতবিনিময় আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিস।
অনুষ্ঠানে ​প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, এই প্রণোদনা প্যাকেজগুলো শুধু ঋণ সহায়তা নয়, বরং একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিবর্তনের রূপরেখা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাময় পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া এবং শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা হবে।

এ সময় তিনি উপস্থিত উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ব্যাংকারদের ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ​চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলমের সঞ্চালনায় দুই ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধানদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গভর্নর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। ​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুল রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​বর্তমান বৈশ্বিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, উদ্যোক্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সব ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৪১ হাজার কোটি টাকা তফসিলি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে।

​সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এবং বিজিএমইএ সদস্য মারুফ চৌধুরী বলেন, অতীতে তালিকাভুক্ত ৬ হাজারের অধিক কারখানার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি টিকে রয়েছে। তিনি রুগ্ন শিল্প পুনরুজ্জীবনে উন্নত বিশ্বের ন্যায় ‘সিক ইন্ডাস্ট্রিজ ল’ প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

জবাবে গভর্নর বলেন, প্রচলিত মর্টগেজভিত্তিক ব্যাংকিং পদ্ধতি খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। বন্ধকি সম্পত্তি থেকে খেলাপি ঋণ আদায়ের হারও সন্তোষজনক নয়। তাই তিনি মর্টগেজভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে ক্যাশ ফ্লো ভিত্তিক ঋণ বিতরণের পরামর্শ দেন।
তিনি এই কর্মসূচি সফল করতে ব্যাংক, শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কর্মসূচির সুফল প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। 

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন