চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এক পেশাদার সাংবাদিককে মিথ্যা মামলার হুমকি, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও মানবাধিকার কর্মী রণি মিত্র (প্রকাশ এলেক্স রনি)-এর বিরুদ্ধে নগরের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুদ্দিন রমিজ।
সাংবাদিক সাইফুদ্দিন রমিজ চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) অর্থ সম্পাদক এবং দৈনিক সকালের সময় ও নিউজ ২১ বাংলা টিভির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ২০২৬ বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম একাডেমি হলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও আইনি সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণি মিত্রের বিরুদ্ধে বন্দরে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী রাকাশ দাস ও তার পরিবার।
জনস্বার্থে এবং পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি সাংবাদিক সাইফুদ্দিন রমিজও বস্তুনিষ্ঠভাবে এই সংবাদটি প্রকাশ করেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত রণি মিত্র।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই রণি মিত্র সাংবাদিক রমিজের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিভিন্ন মানুষের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একই সাথে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে নানা ধরণের অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন এই গণমাধ্যমকর্মী।
এই বিষয়ে সাংবাদিক সাইফুদ্দিন রমিজ বলেন, "ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন থেকে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ ছিল না। কিন্তু রণি মিত্র আমার বিরুদ্ধে যেভাবে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছেন, তাতে আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।"
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত রণি মিত্রের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে তাসলিমা আক্তার আঁখি নামে এক নারীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণামূলক বিয়ে করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়। সেই মামলায় হালিশহর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। এছাড়া বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে রণি মিত্রের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে, সাংবাদিক সাইফুদ্দিন রমিজকে হুমকি ও অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা সোহাগ আরেফিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"একজন সংবাদকর্মী যখন ভুক্তভোগী মানুষের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেন, তখন তাকে হুমকি দেওয়া বা তার ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সরাসরি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। এই রণি মিত্র নিজেকে রাজনৈতিক দলের নেতা ও মানবাধিকার কর্মী দাবি করে যে ধরণের অপকর্ম ও ব্ল্যাকমেইলিং চালাচ্ছেন, তা বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উচিত অবিলম্বে এই সমস্ত অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরা। দল যদি এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেয়, তবে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিক রমিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।"
গণমাধ্যমকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট