মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি টেকপাড়া এলাকার ছেমটখালী খালের ওয়াফদার স্লুইস গেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় জোয়ারের পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশ করে শতাধিক বাড়ি ঘর, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতভিটা ও সড়ক প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী, এমনিতে স্লুইস গেইটটি অকেজো হয়ে যাওয়ার অবস্থা, তার মধ্যে আবার গুটি কয়েক অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার জাল বসিয়ে, পুরো গ্রামের মানুষের কষ্ট দিচ্ছে। মানুষের বাড়ি ঘরে, চলাচলের রাস্তায় জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে স্লুইস গেইটের প্রবেশ মূখে জাল বসিয়ে পানি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। যার ফলে আশপাশের জনবসতি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক নিয়মিত জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে।
দ্রুত এই স্লুইস গেট সংস্কার ও খালের অপব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর পক্ষে মো. মিনহাজ উদ্দিন রিয়াজ, মো. ফরিদ, মো. কাদের ও জাফরসহ কয়েকজন বলেন, স্লুইস গেটের দরজা নষ্ট থাকায় জোয়ারের পানি অবাধে প্রবেশ করছে। এর ফলে পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার চার হাজারের বেশি মানুষ এ সমস্যার কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পুঁইছড়ি ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এম এ কাশেম বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার অবহিত করেছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্লুইস গেটের দরজা নষ্ট থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।'
তিনি আরও বলেন, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার আরবশাহ ঘোনা ফুটখালী খালের স্লুইস গেট এবং ছেমটখালী খালের ওয়াফদার স্লুইস গেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। ফলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার কয়েক হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্লুইস গেট ২টি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।'
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁশখালী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। স্লুইস গেইটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।'
দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট