ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মাসব্যাপী মশক নিধন অভিযান শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 20, 2026 ইং
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মাসব্যাপী মশক নিধন অভিযান শুরু ছবির ক্যাপশন: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মাসব্যাপী মশক নিধন অভিযান শুরু
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 
ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত নগরের আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধংস, লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে চসিক বিটিআই ব্যবহার করছে। এর ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তিনি জানান, গত বছর এ সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮০০ এর বেশি ছিল। চলতি বছরে তা প্রায় ৫৫০ থেকে ৫৮০ জনে রয়েছে। একই সময়ে গত বছর ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হলেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

আশরাফুল আমিন বলেন, আমরা আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছি। এগুলো হলো ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে শতাধিক কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধংস ও পরিচ্ছন্নতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, জমে থাকা পানি ও বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তা ধংস করা হবে।

এ লক্ষ্যে চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। কোথাও ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

জনসচেতনতা বাড়াতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আশরাফুল আমিন। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কনটেন্ট বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনের পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার প্রজননস্থল ধংস করতে নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা নির্মাণসামগ্রীতে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।
ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আগামী এক মাস ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ক্রাশ প্রোগ্রাম চলবে। পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন বিভাগের পাশাপাশি চসিকের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগও সমন্বিতভাবে এতে অংশ নেবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও এটি শুধু দিবসকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়। গত দুই-তিন মাস ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুরো কার্যক্রম ব্যক্তিগতভাবে মনিটর করছেন এবং নিয়মিত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

চসিক সূত্র জানায়, বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ কর্মসূচি এক মাস চলবে। পাশাপাশি নগরের অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
এ সময় চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহিসহ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি