ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি ছবির ক্যাপশন: দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)

নগরের দক্ষিণ বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন। পরে বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহম্মেদ মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১ এর বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করলে মনির হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

গ্রেপ্তার মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড এলাকার ঘারঘাটা গ্রামের সোনামিয়া বাড়ির মো. আলমের পুত্র। বর্তমানে নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে বসবাস করছিলেন।

নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির বাবা গত (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টসে। তারা কেউ বাসায় না থাকলে এ দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর কাছে থাকে। এ সুযোগে সন্দেভাজন মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ৩০/৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হবে বলে জানান তিনি। গত বৃহস্পতিবার বিকালে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আবু জাফর রোড চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছে বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গোডাউন কক্ষ থেকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনিক আটকে করে পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিকেল চারটার দিকে পুলিশের গাড়ি আটকে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিতে চান বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দফায় দফায় বিক্ষুব্ধ জনগণকে ধাওয়া করে এবং টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এ সময় ৩০ জন পুলিশ সদস্য ও ৪ সাংবাদিক আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশবাহী কয়েকটি পিকআপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ ছয় থেকে সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল।

রাতে কক্সবাজার মহাসড়কের বাকলিয়া অংশ অবরুদ্ধ করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে বিক্ষুব্ধরা। রাত প্রায় দেড়টার দিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশের গাড়ি থেকে ব্যাটারি চুরি ও হামলার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে নিজের শিশুকন্যা ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে গতকাল বাকলিয়া থানায় ধর্ষক মনির হোসেনকে আসামী একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৩১ (২২.৫.২৬)। মামলার ব্যাপারে শিশুটির পিতা বলেন, শুধুমাত্র ধর্ষক মনির হোসেনকে আসামি করে আমি বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছি।

এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহম্মেদ আজাদীকে জানান, মামলায় শুধুমাত্র একজনকেই (ধর্ষক মনির হোসেনকে) আসামি করা হয়েছে। আসামিকে কোর্টে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নি সংযোগের ব্যাপারেও মামলা হবে।

যা বলছেন স্থানীয়রা : এলাকাবাসী বলছেন, অভিযুক্ত মনির সেখানকার ভাই ভাই ডেকোরেটরের কর্মচারী। অল্প কিছুদিন আগে ওই দোকানে কাজ নেন। শিশুটির নানীর বাসার কাছে ডেকোরেটরটির গুদাম রয়েছে। বিকালে কৌশলে শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যায় মনির। শিশুটির কান্না শুনে তার নানী তাকে গিয়ে উদ্ধার করে এবং মনিরকে জুতা দিয়ে মারধর করে।

মনির চলে যাওয়ার পথে শিশুটির নানাসহ স্থানীয়রা গিয়ে তাকে একটি ভবনে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ তাকে নিয়ে গেলে মনির সহজেই ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। এ কারণে এলাকাবাসী ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দিতে সন্দেহভাজনকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়েছেন।

বাকলিয়া থানা পুলিশের বিবৃতি : বাকলিয়া থানা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা বালুরমাঠ এলাকার ভাই ভাই ডেকোরেশন দোকানের পাশের একটি গোডাউন কক্ষ থেকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩০ বছর বয়সী অভিযুক্ত মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘারঘাটা এলাকায়। বর্তমানে তিনি বাকলিয়ার মিয়াখান নগরের আলী স্টোর বিল্ডিংয়ে বসবাস করেন। তার দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমানের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই মোবারক হোসেন, এসআই মো. মিজানুর রহমান ও এএসআই মোশারফ হোসেনসহ একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় কিছু দুষ্কৃতকারী সরকারি কাজে বাধা দেয়, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকটি পিকআপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না