ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু ছবির ক্যাপশন: নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু
ad728
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম) 
চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠার ৯ দিন পর মারা গেছেন সিফাতুন নুর (২২) নামে এক গৃহবধূ। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা মো. নুর। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান তার মা জুহিনুর আক্তার (৫৫)। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।

পরিবারের দাবি, ওই রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিফাতুনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল। টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

মারধরের ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার। এতে তার মেয়ের শাশুড়িসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়।


সিফাতুনের বাবা মো. নুরের দাবি, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এমন ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন