ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মফস্বল সাংবাদিক: সত্যের পথে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 24, 2026 ইং
মফস্বল সাংবাদিক: সত্যের পথে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ছবির ক্যাপশন: মফস্বল সাংবাদিক: সত্যের পথে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
ad728
জে.এম জাবেদ 
গণমাধ্যমকর্মী
গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন গণমাধ্যম। আর সেই গণমাধ্যমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে অবহেলিত অংশ হলো মফস্বল সাংবাদিকতা। রাজধানীর বাইরে জেলা-উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকরাই সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, দুর্যোগ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং উন্নয়নের বাস্তব চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু পরিহাসের বিষয়, যাঁরা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের জীবনই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিতে আবদ্ধ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন। তখন একজন মফস্বল সাংবাদিক ছুটে যান ঘটনার কেন্দ্রস্থলে। নিজের নিরাপত্তা, পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন। যাতে মানুষ সঠিক খবর জানতে পারে।গুজব থেকে দূরে থাকে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। এই দায়িত্ববোধই সাংবাদিকতাকে একটি মহান পেশায় পরিণত করেছে।

তবে দুর্যোগের সংবাদ সংগ্রহের চেয়েও কঠিন কাজ হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ করা। একজন মফস্বল সাংবাদিক যখন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কিংবা স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।তখন তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় নানা ধরনের চাপ। কখনো হুমকি, কখনো সামাজিক অপপ্রচার, কখনো শারীরিক হামলা, আবার কখনো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে তাঁকে নীরব করার চেষ্টা করা হয়। এতে শুধু একজন সাংবাদিক নন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারও।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো- মফস্বল সাংবাদিকের নেই নিয়মিত সম্মানী, নেই চাকরির নিরাপত্তা, নেই পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা কিংবা ঝুঁকির সময় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। দীর্ঘদিন একটি সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করেও অনেক প্রতিনিধি প্রয়োজনের সময় নিজেকে একা হয়ে যাই।পাশে থাকে না প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালীদের চাপের মুখে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রতিনিধিকেই দূরে সরিয়ে দেয়। এই প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ তদন্ত করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটিও আইনের আলোকে যাচাই হওয়া উচিত। একইভাবে, সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা মিথ্যা মামলার অভিযোগও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আইনের চোখে সবাই সমান।এই নীতির বাস্তব প্রয়োগই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

মফস্বল সাংবাদিকরা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়। তাঁরা জনগণের প্রতিনিধি। তাঁদের কলমের মাধ্যমে উঠে আসে অবহেলিত মানুষের কথা, জনস্বার্থের প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রীয় সেবার ঘাটতি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা কেবল সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব নয়।এটি রাষ্ট্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজ এবং সর্বোপরি পুরো জাতির দায়িত্ব।

সত্যকে সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরাজিত করা যায় না। তাই মফস্বল সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে নয় বরং তাঁদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

কালুরঘাট ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করলেন হাইকোর্ট