মঞ্জুরুল ইসলাম, লংগদু প্রতিনিধিঃ
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার এক উদীয়মান নক্ষত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তরুণ কবি, লেখক ও সাংবাদিক মোঃ নাজমুল হোসাইন শাওন। সাহিত্যচর্চা ও সমাজ সচেতনতামূলক লেখনীর মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। আগামী অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ তার এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি হতে যাচ্ছে; মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত যৌথ বইয়ে তার ২২টি বই এবং তাতে স্থান পাওয়া ১০২টি লেখা পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে।
শিক্ষক দম্পতি ইসমাইল হোসেন ও নাজমা আক্তারের সন্তান শাওন শৈশব থেকেই লেখালেখির প্রতি অনুরাগী। বর্তমানে সিযক কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এই তরুণ কলমযোদ্ধা কেবল কবিতা বা গল্পেই সীমাবদ্ধ নন, বরং বাঙালির অধিকার, সেনা হত্যা এবং ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ও সাহসী সামাজিক ইস্যুতে তার ক্ষুরধার লেখনী পাঠকমহলে বেশ আলোচিত।
সম্মাননার ঝুলি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: তার সাহিত্যিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মোট ১১২টি সম্মাননা সনদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড (২০২৫) - ঢাকা। ঈশাখাঁ অ্যাওয়ার্ড (২০২৬) - ময়মনসিংহ।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম পদক এবং গুণীজন সম্মাননা পদক।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিশরে সেরা লেখক (৬ষ্ঠ) এবং ভারতে সেরা লেখক (২য়) স্থান অর্জন।
এছাড়া তিনি প্রগতি সাহিত্য পরিষদ ও নেত্র জল ম্যাগাজিন থেকেও গুণীজন সম্মাননা স্মারক লাভ করেছেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার জন্য তিনি ৬৪ জেলার প্রতিনিধি হিসেবেও প্রশংসিত হয়েছেন।
২০০৫ সালে গাঁথাছড়া আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করা শাওন আজ একজন প্রতিষ্ঠিত কলামিস্ট ও কলমযোদ্ধা। এ পর্যন্ত তিনি রেকর্ডসংখ্যক ১,৮৭৬টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর তার শক্তিশালী লেখনী চালিয়েছেন। তার এই সাফল্য সম্পর্কে স্থানীয় গুণীজনরা বলছেন, রাঙামাটির দুর্গম এলাকা থেকে উঠে এসে বিশ্বদরবারে বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা শাওন আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই তরুণ লেখক জানান, তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরতে চান এবং আজীবন শোষিতের পক্ষে কথা বলতে চান।

দৈনিক চট্টগ্রামপোস্ট